মাঠে মাঠে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩২ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মাঠে মাঠে চলছে শীতকালীন সবজি চাষের জোর প্রস্তুতি। বীজতলা পরিচর্যার পাশাপাশি জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা।

গত রবিবার সরেজমিনে ঈশ্বরদীর সবজি প্রধান এলাকা ছলিমপুর, দাশুড়িয়া, সাহাপুর ও মুলাডুলি ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজি চাষে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বীজতলায় উৎপাদন করেছেন চারা। রোগ, পোকামাকড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় চাষিরা বেগুন, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোর কাক্সিক্ষত চারা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য এলাকায়ও সরবরাহ করা যাবে।

এ ছাড়া আগাম জাতের কিছু কিছু সবজি ইতিমধ্যে মাঠ সবুজ করে তুলেছে। মুলা, লাল শাক, বেগুনসহ আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারজাত করতে শুরু করেছেন চাষিরা। আগাম এ সবজি চাষে খরচ বেশি হওয়ায় বাজারে চড়া দামে এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে।

ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ৩০ বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যে বাড়ির আঙ্গিনায় বাঁধাকপি, ফুলকপি ও টমেটোর চারা উৎপাদন করা হয়েছে। আগামী দু-চার দিনের মধ্যে এসব চারা জমিতে রোপণ করা হবে। বেশ কিছু জমিতে উৎপাদিত মুলা, লালশাক, বেগুন এখন বিক্রির উপযোগী বলেও জানান তিনি।

চরমিরকামরী গ্রামের কৃষক রকিবুল মালিথা জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় চাষিদের প্রস্তুতিতে বেগ পেতে হচ্ছে না; যা উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

কৃষি শ্রমিক মতিয়ার, আইয়ুব ও আলাউদ্দিন জানান, শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে তাদের জমি তৈরির কাজ। বীজতলা পরিচর্যা এবং আগাম সবজির জমিতে তাদের আগাছা নিধনের কাজ চলছে। পুরো মৌসুমেই তাদের এ ব্যস্ততা থাকবে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল লতিফ জানান, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে মাঠে মাঠে জোর প্রস্তুতি চলছে। মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে চলেছেন। তিনি বলেন, এবার প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ টনের অধিক সবজি উৎপাদিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত