সমালোচনার মুখে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:২৪ পিএম

অবশেষে দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ-জিনিয়াকে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ-জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপত্তিকর লেখালেখি এবং প্রশাসনকে বিব্রত করার চেষ্টার জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষমা চেয়ে আবেদন এবং বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি তথা বিভাগের সব শিক্ষক উক্ত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা জিনিয়ার সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন। শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত বিবেচনায় এনে এবং বিভাগীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবেদন আমলে নিয়ে জিনিয়ার বিরুদ্ধে যে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হলো।

তবে শিক্ষার্থী জিনিয়ার দাবি, ‌‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে কোনও আবেদন দেইনি। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেন আমার হয়ে ক্ষমা চাইবেন, আমি তো কোনও অপরাধ করিনি। আমি জানি শিক্ষার্থীরা মোটেই সেখানে যাননি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এই শিক্ষার্থীর কথোপকথন অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশ্ন তোলা হয়, একজন উপাচার্য এ ধরনের ভাষায় কথা বলতে পারেন কিনা।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ-জিনিয়াকে এক সেমিস্টারের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার ফাতেমা তুজ-জিনিয়া নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। অন্যদিকে, একই দিনে নিজের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার মো. নাসিরউদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার বহিষ্কার ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য দেয়া হয়নি বরং সে অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নিয়ে অশালীন কুরুচিপূর্ণ এবং কুৎসা রটনাসহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ফেসবুক, ই-মেইল আইডি হ্যাক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট হ্যাক করে ভর্তি পরীক্ষা বানচাল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এছাড়া ফাতেমা তুজ জিনিয়া সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। উপাচার্য অভিযোগ করেছেন, ইতিমধ্যে ওই ছাত্রী তার ফেসবুক আইডি দু’বার হ্যাক করেছে।

এদিকে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশে লেখা ছিল, প্রশাসনকে নিয়ে তার দেয়া স্ট্যাটাস এবং কমেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।

প্রসঙ্গত, জিনিয়ার বহিষ্কারের খবর প্রকাশ ও প্রতিবাদ করায় সোমবার বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শামস-জেবিনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এছাড়া, জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে হয়রানি, জোরপূর্বক সাংবাদিক সমিতি থেকে বহিষ্কার করানো, ক্রমাগত হুমকি প্রদানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় উপাচার্যের অনুসারীরা জড়িত বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার মো. নাসিরউদ্দিন নিজেও শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি প্রদানের ঘটনাও প্রকাশ পেয়েছে।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্যকে পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় ‘মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ’। একই সঙ্গে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও ৩৪ জন শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এছাড়া, ওই দিনই বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার মো. নাসিরউদ্দিনকে অপসারণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত