সাঁকো বানালেন এলাকাবাসী টাকা তুললেন চেয়ারম্যান

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৮ এএম

বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়নের বলদিয়াপাড়ায় খালের ওপর এলাকাবাসী কাঠের সাঁকো নির্মাণ করলেও ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন’ দেখিয়ে টাকা তুলে মেরে দিয়েছেন ওই ইউপির চেয়ারম্যান কে এম কুতুবউদ্দিন। বাড়ি বাড়ি থেকে চাল-টাকা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয়রা সাঁকোটি নির্মাণের পর চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাৎ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

সাঁকোটির প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প কমিটির সভাপতি শতগ্রাম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথমে কাঠের সাঁকো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলাম। পরে খাতায় রেজুলেশন করার কিছুদিন পর আমাদের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা যদি সাঁকো নির্মাণের টাকা উত্তোলন করে খেয়ে ফেলেন এজন্য কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’ ইউপি সদস্য আরও বলেন, ‘আমরা জানিই না কবে টাকা এসেছে, কবে উত্তোলন হয়েছে। বরং আমরা টাকা উত্তোলন করে মেরে খাব বিধায় আমাদের কমিটি ভেঙে দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান।’

সাঁকোটির কাছেই বাড়ি এবং স্বেচ্ছাশ্রমে ব্রিজ নির্মাণের জন্য অর্থ আদায়কারী কমিটির সদস্য আবুল কাসেম বলেন, ‘ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা সবার বাড়ি বাড়ি চাল, টাকা উত্তোলন করেছি। এরপর আমাদের এলাকার কয়েকটি সমিতি গাছ ও কিছু টাকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য অনুদান দিয়েছিল। ব্রিজ নির্মাণ শেষে আমাদের ৩৯ হাজার টাকা ঋণ ছিল।’

তবে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন বলেন, ‘এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে অর্ধেক ব্রিজ নির্মাণ করেছিল। বাকি অর্ধেক ব্রিজ বরাদ্দের টাকায় করা হয়।’

এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত