দিনাজপুরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৫৮ পিএম

হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে প্রতিমা তৈরির কাজে রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের মালাকররা। আগামী ৪ অক্টোবর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবকে ঘিরে চলছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন আয়োজন।

এবার দিনাজপুর জেলায় এক হাজার ২৮৮টি মণ্ডপে পালিত হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের এই দুর্গোৎসব। জেলায় গতবারের চেয়ে এবার ১৮টি মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি স্বরূপ কুমার বকসী বাচ্চু।

জেলা দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপজেলায় পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা। পূজার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে প্রতিমা তৈরির কাজও ততই দ্রুতগতিতে করছেন শিল্পীরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও খড় দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছেন আবার কোথাও শিল্পীর সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কৃত্রিম জীবন পাচ্ছেন মা দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর ও শিব মূর্তি। কোনো কোনো মূর্তিতে পরানো হয়েছে শাড়ি, হাতের বালাসহ অন্যান্য গয়না।

যারা এই প্রতিমা তৈরি করেন তাদেরকে বলা হয় মালাকর। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জয়গঞ্জ বাজার এলাকায় প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন মালাকর শ্রী যোগেশ চন্দ্র রায় ও তার আপন ছোট ভাই হারান চন্দ্র রায়।

প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা জানিয়ে মালাকর শ্রী যোগেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘দুর্গাপূজা এলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। টানা ২০ থেকে ৪০ দিন লাগে একটা প্রতিমা তৈরি করতে। বর্তমানে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন প্রতিমাগুলোকে ফিনিশিং দেওয়ার পালা।’

image

শিল্পী হারান চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা গ্রামে প্রতিমা বানালে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর থেকেও বেশি খরচ হতে পারে। মাটি পূজা উদযাপন কমিটি সরবরাহ করে আর বাকি যা যাবতীয় জিনিসপত্র লাগে সব আমাদের বহন করতে হয়।’

দিনাজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘এবার পূজা মণ্ডপগুলো সাজানো হচ্ছে অপূর্ব সাজে। ভিন্নতা আছে গতবারের চেয়ে। ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলো খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।’

দিনাজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বরূপ কুমার বকসী বাচ্চু বলেন, ‘দিনাজপুরে এবার এক হাজার ২৮৮টি মণ্ডপে পালিত হবে দুর্গোৎসব। গতবারের চেয়ে এবার ১৮টি মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। আগামী ৪ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ৮ অক্টোবর দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।

দিনাজপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব পালনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতোমধ্যেই পূজা উদযাপন কমিটি আর স্থানীয় গ্রাম্য পুলিশ যৌথভাবে মণ্ডপের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত