নেতাদের গ্রেপ্তারে দলের ভাবমূর্তি বাড়বে : রাজ্জাক

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:১০ এএম

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা গ্রেপ্তার হলেও তাতে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়ে বরং বাড়বে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি যেটা করা হচ্ছে, এটা ঢেকে রাখলে লাভ হতো না।’ গতকাল রবিবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি মনে করি না এতে ইমেজের কোনো ক্ষতি হবে। বরং আমাদের ভাবমূর্তি বাড়বে, মানুষের আস্থা বাড়বে। ধুলাবালি, ময়লা, গন্ধ ঝাড়ু দিয়ে কার্পেটের নিচে যদি রেখে দেন, কেউ দেখবে না; তাতে কি ধুলাবালির অপকার থেকে আপনি রেহাই পাবেন? উটপাখি বালির মধ্যে মাথা ঢzকিয়ে দিলেও তীব্র রোদ থেকে রেহাই পায় না।’

এই অভিযান লোক দেখানো কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আইওয়াশ করে তো বাংলাদেশের মানুষকে ধোঁকা দেওয়া যাবে না। দেশের মানুষ খুবই সচেতন।’ এ অভিযান চলবে কি না– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা চলমান, গতকালও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন।’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের এক বৈঠকে যুবলীগের চাঁদাবাজি নিয়ে কথা বলেন। সেই বৈঠকের কথা তুলে ধরে রাজ্জাক বলেন, ওই বৈঠকে বলা হয়েছিল, একটি সংগঠন আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করে ৩০ দিনের কর্মসূচি নিয়েছে। উনি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেছেন, ‘চাঁদাবাজি করে আমার দীর্ঘায়ু কামনা করলে কী লাভ হবে? মানুষ আমার জন্য বদদোয়া করবে, আল্লাহও খুশি হবে না।’

আরেক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এত কঠোর পরিশ্রম করি বাংলার ১৬ কোটি মানুষের কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য। সেগুলোকে যারা মস্নান করছে তাদের সঙ্গে কোনোরকমে আপস নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি কিছু কিছু আমার নাম ভাঙিয়ে আমাকে ব্যবহার করে অনেক অপকর্ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

অপকর্মে জড়িত ২৭ জন মন্ত্রী-এমপির তালিকা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। তার সত্যতা জানতে চাইলে রাজ্জাক সরাসরি উত্তর এড়িয়ে বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে যদি ডেফিনিট কোনো প্রমাণ থাকে, অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’ অনেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।

দুর্নীতি বন্ধে সরকারি দপ্তরগুলো ডিজিটাইজেশন করা হচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের যে উন্নয়ন হয়, তার ৮০ ভাগ খরচ হয় টেন্ডার ও প্রকিউরমেন্টের মাধ্যমে, সেখানে তো দুর্নীতির উৎস। সেই প্রকিউরমেন্ট ডিজিটালাইজড করেছি।’

চলমান অভিযানে গ্রেপ্তার জি কে শামীমের সরকারি কাজ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির কাজ ই-টেন্ডারিংয়ে হয়েছিল। এ কারণেই জাহাঙ্গীরনগরে সফল হয়নি। শামীমের কথা বলছেন, সিস্টেমগুলো শুরু হয়েছে, একটু হয়তো সময় লাগবে। সিস্টেমগুলো আমাদের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত