পারিবারিক টানাপড়েনের করুণ এক ঘটনা সামনে এনেছে সাত দিন বয়সী সারা (ঢামেকের দেওয়া নাম)। ফেলে রেখে যাওয়ার সাত দিন পর এসে মা দাবি করে মোছা. নাহার (৩৮) গতকাল রবিবার তাকে নিতে চাইলেও কর্র্তৃপক্ষ দেয়নি। বিষয়টি শাহবাগ থানাকে জানানো হলে, নাহারকে তারা হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ বলছে, নাহার অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আগে তার চিকিৎসা করা দরকার।
মা দাবিদার মোছা. নাহার জানান, পারিবারিক ঝামেলার কারণে সন্তানকে তিনি হাসপাতালে ফেলে চলে যান। এখন নিতে না পারলে কোনো ভালো পরিবার পেলে দত্তক দেবেন। নাহারের স্থায়ী ঠিকানা সাভার হেমায়েতপুর মণ্ডলপাড়ায়। একটি মানবাধিকার সংস্থায় কাজও করেছেন তিনি। প্রথম স্বামী আজাদের সঙ্গে তালাকের পর রাসেল নামে একজনকে বিয়ে করেন। সেখানেই অন্তঃসত্ত্বা হন। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় রাসেলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর আবার প্রথম স্বামী আজাদের কাছে ফিরে যান। বিয়ে করে তারা মিরপুর মাজার রোডের লালকুঠি এলাকায় বসবাস করতে থাকেন।
নাহারের ভাষ্যে, বর্তমান স্বামী আজাদ তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন। হাসপাতালে সার্বক্ষণিক পাশেও ছিলেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিজারের মাধ্যমে মেয়ে বাচ্চা হয়। এরপর আজাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। সরাসরি না বললেও মেয়েকে আজাদ মেনে নিতে চাচ্ছিলেন না। এজন্য পরের দিন দুজন সিদ্ধান্ত নিয়ে নবজাতককে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান।
হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নিজের থাকারই জায়গা হচ্ছিল না। বাচ্চাকে কীভাবে কোথায় রাখব, ভেবে কূল-কিনারা পাচ্ছিলাম না। এখন বাচ্চার জন্য মন কাঁদায় হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু নিতে পারছি না। দত্তক দিতে হলেও রাজি। আমি চাই, আমার সন্তান ভালো থাকুক।’
ঢামেক কর্র্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল হাসপাতালে এসে নাহার নবজাতককে নিজের সন্তান দাবি করে সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। এজন্য তিনি হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গেও কথা বলেন। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বক্তব্য লিপিবদ্ধ করে দ্বিধায় পড়ে যায়, আসলেই তিনি নবজাতকের মা কি না? পরে নাহারকে শাহবাগ থানা-পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, সারা নামের নবজাতককে আজ (রবিবার) ছোটমণি নিবাসে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল। সব প্রস্তুতি নেওয়ার পর হঠাৎ ওই নারী (নাহার) এসে সারার মা দাবি করে নিয়ে যেতে চান। পারিবারিক সমস্যার কারণে বাচ্চা ফেলে রেখে যাওয়ার বিষয়ে তিনি লিখিত জবানবন্দিও দেন। বাচ্চাটি পুরোপুরি সুস্থ আছে। দুয়েক দিনের মধ্যে তাকে ছোটমণি নিবাসে হস্তান্তর করা হবে। পরে আদালতই তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
নবজাতক ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আসমা আক্তার গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে জানান, নাহার থানাতে আছেন। আগে চিকিৎসা দেওয়া হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢামেক হাসপাতালে নবজাতক রেখে তার মা-বাবা পালিয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তি ফাইল থেকে জানা গেছে, নবজাতকের মায়ের নাম নাহার। আর বাবার নাম রাসেল। তাদের বাসা রাজধানীর মিরপুরে। এরপর হাসপাতালের পরিচালক নবজাতকের নাম রাখেন সারা।
