আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিতে কেউ দেখেননি বলে দাবি করেছেন মামলার আসামিপক্ষের এক আইনজীবী। এমনকি সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতের গায়ে আগুন দিতেও কেউ দেখেননি।
এ ছাড়া দেশজুড়ে আলোচিত এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষী নেই বলেও দাবি করেছেন আসামি উম্মে সুলতানা পপির আইনজীবী ফারুক আহম্মদ। হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী ফেনীতে এসে পপির পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন।
সোমবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে নুসরাত হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে তিনি এসব দাবি করেন।
উম্মে সুলতানা পপি নুসরাতের সহপাঠী ও আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। সোমবার আইনজীবী ফারুক আহম্মদ নুসরাত হত্যা মামলার আসামি পপি ছাড়াও আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম, কামরুন নাহার মনি, জোবায়ের আহম্মদ, হাফেজ আবদুল কাদের, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও নুর উদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
এদিন তাকে সহায়তা করেন ফেনী বারের আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান, মোহাম্মদ ইসহাক ও মো. সিরাজুল ইসলাম। এ ছাড়া মামলার অন্যতম আসামি কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ফেনী বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।
চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে সিরাজসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।
