ভিজিডির চালের সঙ্গে বন্ধুচুলা বাধ্যতামূলক!

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৪ পিএম

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নে হতদরিদ্র মহিলাদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ভিজিডির চাল নিতে আসা সুবিধাভোগীদের কাছে বন্ধুচুলা বাড়িতে স্থাপন বাবদ ৬০০ টাকা বাধ্য করে উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন হতদরিদ্র নারীরা। জোর করে চুলা বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হলে পরে টাকা ফেরতও দিয়েছেন বন্ধুচুলা প্রকল্পের সহকারী জেলা ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম সোহেল।

গত সোমবার বিকেলে বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডির বরাদ্দকৃত চাল নিতে আসা নারীদের কাছ থেকে মোট ৪৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে জানান ভিজিডির চালপ্রাপ্ত একাধিক সুবিধাভোগী মহিলা।

অভিযোগকারী ভিজিডির চাল নিতে আসা শতগ্রাম ইউনিয়নের মোছা. আশা বেগম বলেন, ‘আমার বাড়িত চাল নেই। চার-পাঁচ কেজি চাল ধার কইরা খাইছি! এহন আইসা দেখি তিন বস্তা চাল পামু এজন্য ৬০০ টাকা চাইল। টাকা দিতে না পারলে চাল দিব না। পরে ধার কইরা আইনা টাকা দিছি।’

চাল নিতে আসা আলেহা বেগম বলেন, ‘চাল নিতে গেলাম আমারে কয় টাকা দেন চাল নেন। বন্ধু নিতে হবে, না হলে চাল হবে না।’

সুবিধাভোগী মহিলাদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বীরগঞ্জের ঝাড়বাড়ি পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক শেখ মো. জাকির হোসেন নামের তরুণ সমাজকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ করলে টাকা উত্তোলনকারীদের দুজন পালিয়ে যায়। পরে বন্ধুচুলা প্রকল্পের সহকারী জেলা ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম সোহেল উত্তোলনকৃত ৪৮ হাজার টাকা ফেরত দেন।

এ বিষয়ে ঝাড়বাড়ি পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক শেখ মো. জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার কাছে কয়েকজন গরিব ও অসহায় মহিলা এসে অভিযোগ করেন ভিজিডির চাল নিতে গিয়ে তাদের কাছে ৬০০ টাকা নিচ্ছেন। কীসের জন্য এই টাকা নিচ্ছেন এটাও অনেক মহিলা বলতে পারছেন না। পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখি বন্ধুচুলা বাবদ এসব অসহায় মহিলার কাছে জোরপূর্বক ৬০০ করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ করলে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেন।’

এ বিষয়ে বন্ধুচুলা প্রকল্পের সহকারী জেলা ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বন্ধুচুলা কেনা বাবদ প্রত্যেকের কাছে ৬০০ করে টাকা নিয়েছিলাম। তবে টাকা ফেরত দিয়েছি।’ শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে এম কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘আমি তো টাকা তুলিনি, তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। টাকা তুলেছে বন্ধুচুলার লোকজন। আমরা শুধু কাউন্সেলিং করেছি সবার মাঝে।’

বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘বন্ধুচুলা বাবদ ভিজিডির কার্ডধারী মহিলাদের কাছে ৬০০ করে টাকা নেওয়া হচ্ছে শোনার সঙ্গে সঙ্গেই এই টাকা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি এবং সবার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত