বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ স্থাপনের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা মাহমুদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার রাতে তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পুলিশ সদর দপ্তর তাকে বরখাস্ত করে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে।
বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা।
ওসি মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে আসা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দেড় বছর ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওসি মাহমুদুল হক এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওসি মাহমুদুল তাকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মাহমুদুল হক নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওই তরুণী ১ আগস্ট পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তদন্ত কমিটি করতে ডিএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগটি পাঠান আইজিপি। মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোনালিসা বেগমকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি তদন্ত করে এর সত্যতা পান। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনটি পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেন। ২৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপি থেকে আইজিপির কাছে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়।
আইজিপির কাছে দেওয়া তরুণীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ওসি মাহমুদুলের বাড়ি নওগাঁয়। ওই তরুণীর বাড়িও উত্তরবঙ্গে। প্রথমে চাকরির কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তিনি। ছোট বোন পরিচয়ে পল্টনের হোটেল ক্যাপিটেলে ওঠান মেয়েটিকে। খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন ওসি। এ নিয়ে মেয়েটির সঙ্গে ঝগড়া হয়। ওসি তাকে ভালোবাসেন বলে আশ্বস্ত করেন। স্ত্রী থাকলেও তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রায় ওই হোটেলের ৩১৫ ও ৫১৭ নম্বর কক্ষে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন মাহমুদুল।
তরুণী আরো অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওসি মাহমুদুল হকের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় তরুণীর। মেসেঞ্জারে কথোপকথন শুরু হয়। একদিন হুট করে মাহমুদুল মেসেঞ্জারে জানান, তিনি নওগাঁয় গেছেন। দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তরুণীর সঙ্গে। ওই বছরের ২১ অক্টোবর নওগাঁ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে দু'জন দেখা করেন। তারপর থেকে মোবাইল ফোনে কথা হতো নিয়মিত। স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা মেয়েটিকে জানাতেন ওসি। বিভিন্ন উপহার পাঠাতেন। ক্রমে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় তাদের। মাহমুদুলকে নিজের জন্য একটি চাকরির প্রয়োজনীয়তা কথা জানান তরুণী। এক সময় মেয়েটিকে জানানো হয়, তার জন্য ঢাকায় একটি চাকরি ঠিক করা হয়েছে। চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলে ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মেয়েটিকে ঢাকায় আসতে বলেন ওসি। ঢাকায় আসার পর হোটেল ক্যাপিটেলে নিয়ে স্যুপের সঙ্গে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে তাকে নির্যাতন করেন মাহমুদুল।
তরুণী আরো উল্লেখ করেন, তারা একাধিকবার কক্সবাজার যান। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর পরীক্ষা করে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে জানতে পারেন। তখন তিনি হোটেল ক্যাপিটেলে ছিলেন। বিষয়টি মেসেঞ্জারে মাহমুদুলকে জানান। মাহমুদুল হোটেলে যান তার কাছে। মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দেন তাকে। ওসি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন, তবে গর্ভপাত করার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে দু'জনে ঝগড়া হয়। পরে ঢাকা ছেড়ে চলে যান মেয়েটি। এক রাতে গর্ভপাতের জন্য ওষুধ খেয়ে সন্তানটি নষ্ট করে ফেলেন।
২০০১ সালে এসআই পদে পুলিশে যোগদান করেন মাহমুদুল হক। ২০১৭ সালের ২ জুলাই পল্টন থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন তিনি। ওসির স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে।
