প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া হতদরিদ্রের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে গরু

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৭ পিএম

কাঁঠালিয়ায় মানুষের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ঠাঁই হয়েছে গরুর। জমি আছে ঘর নেই এমন হতদরিদ্রের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় এক লাখ টাকায় নির্মিত ঘর মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকলেও নিজের নামে জমি না থেকেও ঘর বরাদ্দ নেওয়া এবং সেই ঘরে নিজে না থেকে গোয়ালঘর বানিয়েছেন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ছিটকি এলাকার আশরাফ আলী সিকদারের জামাতা নজরুল ইসলাম।

জানা গেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং নিজের নামে জমি না থাকার সত্ত্বেও নজরুল ইসলাম জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর একটি ঘর তার নামে হাতিয়ে নেন। নজরুলের নামে জমি না থাকলেও এই সরকারি ঘর তার শ্বশুরের বাড়িতে শ্বশুরের বড় দোতলা কাঠের ঘরের সামনেই নির্মাণ করেন।

ঘরের ছাউনির কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর মাস তিনেক আগে ঘরটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বুঝে নেন নজরুল, তারপর থেকেই সেই ঘরকে গোয়ালঘর বানিয়ে গরু লালনপালন শুরু করেন। টয়লেট এবং ঘরের বেড়ার বাকি মালামাল দিয়ে নজরুল তার শ্বশুরের ঘরের সঙ্গে আরেকটি ছোট গোয়ালঘর ও বাড়ির সামনে একটি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে নজরুল তার শ্বশুরবাড়িতে তার পরিবার নিয়ে এক সঙ্গে বসবাস করছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নজরুল শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও ত্রাণের ঘর পাওয়ার মতো ওর অবস্থা না। তার পরেও শ্বশুরের জমিতে কীভাবে ত্রাণের ঘর বরাদ্দ পেল সেটা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকেরাই ভালো বলতে পারবে।

ঘর বরাদ্দ পাওয়া নজরুল ইসলাম বলেন, ত্রাণের ঘরের জন্য আমি অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করি। আবেদনের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আমার নামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একখানা ঘর বরাদ্দ দেয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে আপাতত আমার গরুগুলো রেখেছি।

কাঁঠালিয়া আওরাবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিটন নকিব বলেন, ঘর বরাদ্দ দেওয়ার সময় আমাদের কোনো মতামত নেননি তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি তহশিলদারের মাধ্যমে তদন্ত করে ঘরগুলো দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন বলেন, সরজমিন গিয়েছিলাম। ওই ঘরের কিছু কাজ বাকি ছিল, সেটা এরই মধ্যেই শেষ হয়েছে। যে ঘর বরাদ্দ পেয়েছে সে ওখানেই থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত