কিশোরগঞ্জবাসীর বহুল প্রত্যাশিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটির বহির্বিভাগ চালু হতে না হতেই দেখা দিয়েছে চিকিৎসক ও ওষুধের সংকট।
মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামকরণের মাধ্যমে স্থাপিত হয় এ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি। গত ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু করা হলেও এখন ওষুধ ও চিকিৎসক সংকটে পড়েছে।
বহির্বিভাগ চালুর এই কদিনে প্রত্যাশার চেয়ে হতাশার পাল্লাটাই ভারী। রোগীরা পাচ্ছেন না পরিপূর্ণ বহির্বিভাগ চিকিৎসাসেবা ও সরকারি ওষুধপত্র। প্রতিদিন হাজারো ভুক্তভোগী রোগী সেবার আশায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলেও বাড়ি ফিরছেন নিরাশ হয়ে। মাত্র ছয়জন ডাক্তারের দেওয়া চিকিৎসায় পরিপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কিশোরগঞ্জবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, যেসব চিকিৎসক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তার মধ্যে মেডিসিনের একজন সহকারী অধ্যাপক এবং গাইনিতে একজন সহকারী অধ্যাপক চেম্বার করছেন। তাছাড়া সার্জারি ও শিশু বিভাগে এখন পর্যন্ত কোনো অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজেহাল অবস্থানে শিশু বিভাগ। অধ্যাপকের নিয়োগ থাকলেও তারা সবাই ব্যস্ত নিজ নিজ চেম্বার নিয়ে। অন্য যারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তারাও সঠিকভাবে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বাসিন্দা গৃহিণী জুলেখা বানু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অনেক গরিব মানুষ। এতদূর থেকে অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে অনেক আশায় মেডিকেলে আসলাম। কিন্তু কোনো ডাক্তার পেলাম না। এখন ছেলেকে নিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছি। হোসেনপুর উপজেলার পুমদি গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা খাতুন বলেন, ডাক্তারও পাইনি আর কোনো ওষুধও মেলেনি। এখন প্রাইভেট চিকিৎসকের কাছে দেখানো ছাড়া উপায় নেই।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির সহকারী অধ্যাপক ডা. পিনাকী পাল বলেন, ইন্সট্রুমেন্ট না থাকার কারণে আমরা সঠিক সেবা দিতে পারছি না। সেই সঙ্গে রয়েছে আবার ওষুধের সংকট। এত বড় জনসমষ্টির এলাকায় মেডিকেলটি রোগীদের ভিড় সামাল দিতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।
সার্জারি বিভাগের ডা. গিয়াসউদ্দিন আরিফ বলেন, যেসব সেবা কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে সহজে দেওয়া সম্ভব, সেটাও এ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়া যাচ্ছে না।
এসব বিষয়ে মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. সাইদুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা চলতি মাসের মধ্যে সব বিভাগ চালু করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।
