বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-ই-বাংলা হল থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের বের করে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আবরার ফাহাদ হত্যার ভিডিও ফুটেজ গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগে হল প্রভোস্টকে সকাল থেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন পুলিশ কর্মকর্তারাও।
পরে রাতে একটি ভিডিও ফুটেজ দিলেও তা মানতে রাজি নন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি প্রকৃত অপরাধীরা এ ভিডিও ফুটেজে নেই। তারা প্রকৃত অপরাধীদের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান।
তাদের দাবি, আবরার ফাহাদ হত্যার এক মিনিট ২২ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে যাদের দেখা গেছে তাদের অধিকাংশই ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগের জুনিয়র নেতাকর্মী। অন্যদিকে ঘটনায় জড়িত ১৫তম ব্যাচের মূল অপরাধীরা সিসিটিভি ফুটেজ আসেনি বলে দাবি করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সিসিটিভির ফুটেজে করে দেখা গেছে, কালো টি-শার্ট পরা মুয়াজ (ইইই ১৭তম ব্যাচ), ছাত্রলীগের সদস্য জেমি ও তানিম (১৭তম ব্যাচ)।
আরো দেখা যায়, ইফতি মোশাররফ সকাল (১৬তম ব্যাচ), মাহমুদুর রহমান মাজেদ (এমএমই ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ (মেকানিক্যাল ১৭তম ব্যাচ), মুজাহিদ (১৬তম ব্যাচ ইইই), তানভীর (মেকানিক্যাল ১৬তম ব্যাচ), রাফাদ ও তোহা ( মেকানিক্যাল ১৭তম ব্যাচ)।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ ঘটনায় ফুটেছে যাদের দেখা গেছে তারা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সিনিয়রদের নির্দেশ পালন করেছেন মাত্র। মূল অপরাধীদের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে পুরো ঘটনার ফুটেজ দেখতে চেয়েছি কিন্তু আমাদের ফুটেজ দেখানো হয়নি।
এরপর সোমবার রাতে পুলিশের কর্মকর্তারা ওই হলে প্রবেশ করতে গেলে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের বের করে দেন হল থেকে। পরে তারা হলের গেটে তালা দিয়ে দেন।
এর ফলে শের-ই-বাংলা হলের সহকারি প্রভোস্ট আব্দুল্লাদ আদনানের কক্ষে অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
এ ঘটনায় নয়জনকে আটকের তথ্য দেয় পুলিশ।
এ পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন।
এ ঘটনায় পলাতক তিন ছাত্রলীগ নেতা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ।
রোববার রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা যায়, রাতে বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। পরে দিবাগত রাত তিনটার দিকে হল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
মারা যাওয়া আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে।
ময়নাতদন্তে জানা যায়, মারধরের কারণে রক্তক্ষরণ ও ব্যথায় তার মৃত্যু হয়।
