কাশ্মীর সচল করতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান মার্কিন কংগ্রেস কমিটির

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:১৩ পিএম

ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীর থেকে অতিসত্বর কড়াকড়ি তুলে নিতে আবারও ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী কমিটি এক টুইটার বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই মনোভাব প্রকাশ করে।

টুইটারে কংগ্রেসের হাউস ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটি টুইটারে জানায়, ‘ভারতের আরোপ করা কাশ্মীরের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি অঞ্চলটির বাসিন্দাদের প্রাত্যহিক জীবনে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলছে। ভারতের উচিত দেশের সকল নাগরিকদের মতোই কাশ্মীরিদের সম-অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন কংগ্রেস কমিটির এই আহ্বান কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

আগস্টের শুরুতে কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারতের বিজেপি সরকার। অঞ্চলটিতে কঠোর কড়াকড়ি ও সামরিক নিরাপত্তা জারির কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কাশ্মীরের সঙ্গে পুরো বিশ্বের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।

সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রীসহ ২০০ জনের মতো স্থানীয় নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আটকের সংখ্যা অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার করা হয়।  যাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার জনকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটককৃতদের মধ্যে ৩৫০ জনকে পিএসএ আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের উত্তরপ্রদেশের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে পর্যবেক্ষকেরা জানান, প্রতি ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কাউকে না কাউকে। অল্পবয়সী থেকে প্রাপ্তবয়স্ক কোনো পুরুষেই নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বারবার আহ্বান করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগেও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যালিস ওয়েলসের সাংবাদিকদের কাছে কাশ্মীর নিয়ে ওয়াশিংটনের গভীর উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ  গণগ্রেপ্তার এবং বাসিন্দাদের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”

ওয়েলস বলেন, “আমরা আশা করছি, ভারত সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিবে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেবে।”

তিনি জানান, কাশ্মীরে প্রতিশ্রুত নির্বাচনের দ্রুত তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় আছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া উত্তেজনা কমাতে ভারত-পাকিস্তান চাইলে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে রাজি আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আগস্টের শুরুতে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে এ নিয়ে কয়েকবার দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতায় তার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত