শক্তি বাড়াতে দুই জঙ্গি সংগঠনকে এক করার চেষ্টা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:২৮ পিএম

নিষিদ্ধ ঘোষিত দুই জঙ্গি সংগঠনকে এক কাতারে নিয়ে এসে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল জঙ্গিদের। এই কাজে সক্রিয় ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শাহীন আলম ওরফে ওমর।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শাহীন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম ও নব্য জেএমবিকে এক করতে চেয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যে উভয়পক্ষের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন।

তবে সেই চেষ্টা সফল হওয়ার আগেই শাহীনসহ আনসার আল ইসলামের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগ।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম, মো. হানিফুজ্জামান ওরফে বিপ্লব ও মো. আল মামুন। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সেল হিসেবে কাজ করছিল। তাদের কথিত শায়েখের নির্দেশে তারা ট্রেনিং গ্রহণ করেছে।

চারজনের নেতা মো. শাহীন আলম ওরফে ওমর। তিনি সাউথ কোরিয়ার আংশু ইউনিভার্সিটির অ্যাভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে একটি গ্রুপ তৈরি করেন।

পরবর্তীতে এই গ্রুপটির সঙ্গে আনসার আলম ইসলামের মূল নেতৃত্বের সঙ্গে সংযোগ হয়। শাহীন কিছুদিন আগে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে হিজরত করার জন্য আরও কিছু লোককে উদ্বুদ্ধ করেন।

সিটিটিসি প্রধান আরও বলেন, শাহীন আলমের উদ্দেশ্য ছিল আনসার আল ইসলাম ও নব্য জেএমবিকে একই ব্যানারে বা প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা যায় কিনা। সেজন্য তিনি আনসার আলম ইসলাম ও নব্য জেএমবির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন।

এই গ্রুপটি সুন্দরবন ও বান্দরবানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে সিটিটিসির তদন্ত কর্মকর্তারা।

মনিরুল ইসলাম বলেন, এই গ্রুপটি সুন্দরবনের করমজল এলাকায় প্রথমে সাত দিনের ট্রেনিং নেয়। প্রশিক্ষণে আনসার আল ইসলাম মূলত চাপাতি ব্যবহার করে। আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও ব্যবহার কম করেছে। বোমা ব্যবহারের প্রমাণ আমরা আগে পাইনি। তারা সংগ্রহ করেছিল।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে বান্দরবানের আলীকদমে তারা একটি জায়গা লিজ নেয়। সেখানে কফি শপের আড়ালে তারা আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম চালায় এবং এটিকে প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করে। তারা এক মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

সিটিটিসি প্রধান জানান, আনসার আল ইসলাম গঠিত হওয়ার পর তারা ব্লগার, অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। এই গ্রুপটিও চাপাতি ও অন্যান্য ফিজিক্যাল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এছাড়া ধর্মের অপব্যাখ্যার কাজটি তারা পুরোপুরিভাবে করছিল।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় জানিয়ে তিনি বলেন, শাহীন আলম ছাড়া বাকি তিনজনের একজন সাইফুল ইসলাম। তিনি একটি মাদ্রাসার ছাত্র। হানিফুজ্জামান ও আল মামুনের কলেজের (এইচএসসি) ছাত্র। তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

মনিরুল ইসলাম বলেন, চুয়াডাঙ্গা থেকে হানিফুজ্জামান বিপ্লবের একটি জিডি আমরা পেয়েছি। যাওয়ার আগে তার এক বন্ধুর কাছে বলে গিয়েছিল তিনি সুন্দরবন এলাকায় প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘যে শায়খের নির্দেশে শাহীন আলম ও তার গ্রুপের সদস্যরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন সেই শায়েখকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, এরা যেসব ডিভাইস ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতো আমরা সেগুলো সংগ্রহ করেছি। কথিত সেই শায়েখকে গ্রেপ্তার ও চিহ্নিত করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে তুলে আমরা রিমান্ড চাইব। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সংগঠনের সঙ্গে আরও কারা জড়িত তা জানা যাবে।

কী উদ্দেশ্য নিয়ে তারা সংগঠিত হচ্ছিল সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের একটা পরিকল্পনা ছিল তাদের । তারা প্রাথমিকভাবে বলেছে, এই সরকার মুরতাদ সরকার। পাশাপাশি তাদের ভাষায় নাস্তিক ব্লগার যারা আছে তাদের পুনরায় টার্গেট করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত