‘বেশির ভাগ শিশু নিকটজনের যৌন নির্যাতনের শিকার’

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:১৭ পিএম

বেশির ভাগ শিশু নিকটজন দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয় বলে দাবি করেছে ‘আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি’।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে তারা এমনটা জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিশু যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শিশু যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা গত বছরের ঘটনার সমান বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তারা দাবি করে, বেশির ভাগ ঘটনায় দেখা গেছে, শিশুরা নিকট আত্মীয়, নিকটজন অথবা প্রতিবেশী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

বক্তারা শিশু যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার বিচার ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপ্রধান শামীমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম।

ফেরদৌস আরা রুমীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির সদস্য তামান্না রহমান।

এ ছাড়া জাতীয় কমিটি সদস্য মাহবুব আলম ফিরোজ, ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক সৈয়দা শামীমা সুলতানা, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল, ইক্যুইটিবিডি’র মোস্তফা কামাল আকন্দ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে ফেরদৌস আরা রুমী বলেন, দেশের ৫০টির বেশি জেলায় উদযাপন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। র‌্যালি, সেমিনার, মানববন্ধন, মেলা আয়োজন এবং গ্রামীণ নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদানসহ নানা কর্মসূচিতে দিবসটি উদযাপন করা হবে।

তারা জানান, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন করে আসছে।

তামান্না রহমান মূল বক্তব্যে বলেন, গত ছয় মাসে সারা দেশে ৫৭২ শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর এক ছেলেসহ ২৩ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে তিন ছেলে শিশুসহ ৭৫ জন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ সংখ্যা নির্ণয় করা হয়েছে বলে জানায় তারা।

তাদের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ৭৫ ভাগ শিশু যৌন হয়রানির ঘটনাই ঘটে পরিবারের ঘনিষ্ঠজন, বন্ধু বা আত্মীয়দের মাধ্যমে। শিশু যৌন হয়রানির ঘটনাগুলো বেশির ভাগ বাড়িতে, আত্মীয় বা পারিবারিক বন্ধুদের বাড়িতে, স্কুলে বা স্কুলে যাওয়ার পথে এবং পরিচিত পরিবেশে ঘটছে।

এতে আরো বলা হয়, সাধারণত নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয় বেশি। অভিভাবকরা পারিবারিক সম্মানের কথা ভেবে শিশুদের চুপ করিয়ে রাখে।

সৈয়দা শামীমা সুলতানা বলেন, একটি শিশুকে তার শরীরের তিনটি বিশেষ জায়গা যেমন, ঠোঁট, গোপনাঙ্গ ও পায়ুপথ সম্পর্কে জানাতে হবে। এখানে কেউ স্পর্শ করতে পারবে না, যদি কেউ স্পর্শ করতে চায় তাহলে সে যেন চিৎকার করে- এগুলো জানাতে হবে।

মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, থানায় ভিকটিম বা তার পরিবার মামলা করতে গেলে দোষারোপ না করে মামলা গ্রহণ করতে হবে এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নির্ভরতা দিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

শামীমা আক্তার বলেন, যেসব শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, তারা পরবর্তী জীবনে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত