নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাদারীপুরের পদ্মা নদীর শিবচর অংশে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ১৬ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে গেলে জেলেরা আদালত বহরে হামলা চালায়। গত সোমবার সন্ধ্যায় শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, অভিযানে গেলে গ্রামবাসী ও জেলেরা ভ্রাম্যমাণ আদালত বহরকে ‘ডাকাত-ডাকাত’ বলে চিৎকার দিয়ে ঘেরাও করে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ আরও জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু অসাধু জেলে শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী, মাদবরচর, চরজানাজাত, বন্দরখোলা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে ডিমওয়ালা মা ইলিশ ধরে আসছিল। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-নোমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু করে। এ সময় নদী থেকে ২০ হাজার মিটার জাল উদ্ধার ও প্রায় ৫ মণ ইলিশ জব্দ করা হয়। এছাড়া মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি নৌকা বিনষ্ট করা হয়। একপর্যায়ে এক জেলেকে আটক করা হলে জেলেরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালায়।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় কিছু নৌকা ঘাটে বাঁধা থাকা অবস্থায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে সেগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়। যে কারণে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রশাসনের বাগ্বিতত্ব হয়। এ সময় কিছু জেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ গুলির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পদ্মা নদীর শিবচর অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-নোমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ টি এম শামসুজ্জামান জানান, ঘাটে বাঁধা যে নৌকাগুলো নিয়ে তারা রাতে মাছ ধরতে নামে, সেই নৌকাগুলো আমরা ছিদ্র করে দিই। এ সময় জেলেরা আমাদের ঘিরে ফেলে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। পুলিশও ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
