সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে কেজাউড়া গ্রামে নৃশংসভাবে শিশু তুহিন মিয়া হত্যায় তার বাবা জড়িত থাকতে পারে, সেটা বিশ্বাস হচ্ছে না তুহিনের মা মনিরা বেগমের। তবে হত্যাকাণ্ডে যদি স্বামী জড়িত থাকে, তাহলে তারও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
ওই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিহত শিশু তুহিনের মা মনিরা বেগম বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই বছর ধরে ছেলে আমার বাপের কাছেই রাতে ঘুমায়। আমি থাকি এক রুমে, বাপ-ছেলে থাকে অন্য রুমে। ছেলে আমার কাছে ঘুমায় না। প্রতি রাতের মতো মঙ্গলবার রাতে ১০টায় সবাই ভাত খাই। ভাত খেয়ে ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে আমি আমার ঘরে চলে যাই এবং ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ রাতে শুনি ঘরের দরজা খোলা, আমার ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না। যখন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়, কিছুক্ষণ পরই অসুস্থ হয়ে পড়ি। সকালে অন্য মানুষের কাছে শুনি আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।
মনিরা বেগম আরও বলেন, কেউ কি চায় তার ছেলেকে মেরে ফেলতে, মেরে ফেরার জন্য অন্যের কাছে নিয়ে দিতে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি যেমন ছেলেকে মানুষ করেছি, তার বাপও একই ভাবে তাকে মানুষ করেছে। এরপরও যেই আমার ছেলে হত্যায় জড়িত থাকুক তার শাস্তি চাই, যদি বাপ-চাচা জড়িত থাকে তাদের যেন শাস্তি দেয়া হয়।
এদিকে ঘটনার দিনই স্বামীর বাড়ি কেজাউড়া গ্রাম ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জকিনগর বাপের বাড়িতে চলে গেছেন নিহত শিশুর মা মনিরা বেগম। সেখানেই তার অন্য দুই ছেলেকে নিয়ে থাকছেন এবং তুহিনের জন্য সারা দিনই কান্নাকাটি করছেন।
কেজাউড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, নৃশংস ঘটনার পর আমার ছেলে আমার কাছে রাতে ঘুমাবে কিনা সন্দেহ আছে। দুনিয়াতে বাপ আর ছেলের মধ্যে সব বিশ্বাস উঠে যাবে মনে হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
স্থানীয় সামছুজ্জামান মিতা বলেন, মানুষ যখন হিংসায় বশীভূত হয়ে যায়, তখন সে মানুষ থাকে না, পশুতে পরিণত হয়। তার হিতাহিত জ্ঞান, মানবিকবোধ কিছুই থাকে না। সে তার মনে যা চায় তাই করতে পারে, আমরা শিশু তুহিনের হত্যার ঘটনায় এই সত্যই বুঝলাম।
এর আগে অজ্ঞাত ১০-১২জনকে আসামি করে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন মনিরা বেগম। হত্যা মামলায় শিশু তুহিনের পিতা আব্দুল বাসির, চাচা জমশেদ আলী, মোছাব্বির আলীকে রিমান্ডে নিয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
দিরাই থানার ওসি কে. এম নজরুল বলেন, আমার আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছি, নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি, আর কিছু বলতে পারছি না।
তিনি বলেন, মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় আটক নিহতের চাচি খায়রুন নেছা ও চাচাতো বোন তানিয়াকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
