গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবের নবম দিনে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আবৃত্তি সংসদ কুমিল্লা মঞ্চস্থ করেছে মহাভারত অবলম্বনে ‘প্রাগযুগে পুরোভাগে’। সেগুনবাগিচার সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এটি মঞ্চস্থ হয়। কাশীরাম দাসের লোকজ পালা ফর্মের ওপর ভিত্তি করে কচ-দেবযানীর উপাখ্যান এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে মহাবীর কর্ণ-অর্জুনের আত্মঘাতী যুদ্ধে মানবিক ক্রন্দন আর অধর্মের বিরুদ্ধে ঐশ্বরিক বিজয় ‘প্রাগযুগে পুরোভাগে’ প্রযোজনাটির মূল উপজীব্য। এটি গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন আবৃত্তিশিল্পী কাজী মাহতাব সুমন। বিভিন্ন চরিত্রে অংশ নেন ফয়সাল আহমেদ অনন্ত, সুমনা দত্ত, অনুপমা শিখা, হৃদি সুকন্যা, মৌমিতা মিষ্টি, ইশতিয়াক চৌধুরী, নুযহাত, আনিকা, সৃজন। আবহসংগীতে ছিলেন গোপাল বিশ্বাস, হোসেন হৃদয়, বাদল হোসেন বাদশা ও সৌরভ দাশগুপ্ত। একই মিলনায়তনে ঢাকার কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র মঞ্চস্থ করে ‘তথাগত’ নামের আরেকটি প্রযোজনা। বাণী বসুর ‘মৈত্রিয় জাতক’ অবলম্বনে ‘তথাগত’ প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন তিতাস রোজারিও। এ ছাড়া গতকাল উৎসবে মঞ্চস্থ হয়েছে পথনাটক, আবৃত্তি, নৃত্য, ছোটদের পরিবেশনা এবং মূকাভিনয়। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টায় একযোগে চার মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয়েছে চারটি নাটক। জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে নাট্যচক্র মঞ্চস্থ করে ‘ভদ্দরনোক’, পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে ভারতের বেলঘরিয়া রূপতাপস মঞ্চস্থ করে ‘এলা এখন’ এবং স্টুডি থিয়েটার মিলনায়তনে নাট্যম রেপাটরি মঞ্চস্থ করে ‘ডিয়ার লায়ার’।
মহাকালের তিন যুগপূর্তিতে নাট্যোৎসব শুরু সোমবার
নাট্যচর্চার তিন যুগপূর্তি উপলক্ষে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের শেষ প্রয়াস হিসেবে আয়োজন করেছে ‘বাংলা নাট্যোৎসব ২০১৯’। ২১-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী এ নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন ও পরীক্ষণ থিয়েটার হল, বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মঞ্চ এবং দনিয়া স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে। উৎসবে ৩১টি নাটক মঞ্চস্থ হবে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার নাট্যদল উৎসবে অংশ নিচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করবেন ভারতের ত্রিপুরা সরকারের চিফ হুইপ কল্যাণী রায়, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার এবং মঞ্চসারথি আতাউর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের নাটক ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’, নাট্যচক্রের ‘একা এক নারী’ ও ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর ‘তক্ষক’।
