অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, অপর এক কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন- করপোরেশনের বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, বাজার সুপারিনটেনডেন্ট মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও ট্রেড লাইসেন্স সুপারিনটেনডেন্ট মো. আজিজুর রহমান। এছাড়া, প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিযুক্ত মো. আহসান উদ্দিন রোমেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, করপোরেশনের স্টল বাণিজ্যসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বরখাস্তের পাশাপাশি ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় মামলা করা হবে না সেই মর্মে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিকেলে বরখাস্তকৃতদের আদেশে স্বাক্ষর হলেও সোমবার দুপুরে অভিযুক্তদের হাতে ওই আদেশের কপি পৌঁছে দেওয়া হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার আগে এদের তিনজনকেই কর্তৃপক্ষ নিজ দপ্তর থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিযুক্ত করেছিলেন। অপরদিকে সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আহসান উদ্দিন রোমেল যিনি বর্তমানে প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিযুক্ত রয়েছেন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত বাবলুর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছ, মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে নিজ পদে থাকাকালীন সময়ে অর্থ দপ্তরে প্রভাব খাঁটিয়ে উচ্চতর স্কেল গ্রহণ, বেতনের সঙ্গে অসামঞ্জস্য অর্থ আয় ও নামে-বেনামে অ্যাকাউন্ট খুলে করপোরেশনের অর্থের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে জ্ঞাত বহির্ভূত আয়ের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে মুহাম্মদ নুরুল ইসলানের বিরুদ্ধে নিজ পদে কর্তব্যকালীন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে বিভিন্ন নামে ও বেনামে সিটি করপোরেশনের একাধিক স্টল বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বরাদ্দবিহীন অনেক স্টল কর্তৃপক্ষের অগোচরে নিজ ইচ্ছায় জনসাধারণের কাছে ভাড়া দিয়ে ভাড়ার টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করে আত্মসাৎ এবং অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে স্টল বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া মো. আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে বিভিন্ন নামে ও বেনামে সিটি করপোরেশনের একাধিক স্টল বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিজ পদ (ট্রেড লাইসেন্স সুপারিনটেনডেন্ট) এ থাকাকালীন সহায়ক কর্মচারীকে দুর্নীতিতে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ওই অবৈধ কাজ না করা হলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি প্রদর্শনসহ গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা এনে হয়রানিও করছেন তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই তিন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সিটি করপোরেশনের ভাবমূর্তি অনেকাংশে ক্ষুণ্নসহ আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে। তাই তাদের তিনজনকেই চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিধিমালার ৪৪(১) ধারা মোতাবেক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনজনই খোরাকি ভাতা পাবেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তের পাশাপাশি ওই তিনজনের অপরাধের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে না, সেই মর্মে পত্র প্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ বরাবর জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া সিটি করপোরেশনের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আহসান উদ্দিন রোমেল (বর্তমানে প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিযুক্ত) তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
মো. আহসান উদ্দিন রোমেল জনসংযোগ কর্মকর্তা পদে কর্মরত না থেকে প্রশাসনিক শাখায় সংযুক্ত থাকলেও তথ্য গোপন রেখে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে তথ্য কমিশনের শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য ঢাকা গমনের অফিস আদেশ সাক্ষর করিয়েছেন। যা কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে সম্প্রতি কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছিলেন এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে সেই নোটিশের জবাব দেয়ার কথা থাকলেও তা করেননি। এ অপরাধের কারণে কেন সাবেক এই জনসংযোগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ৩ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
