স্পিডবোটে চড়ে, জেলেদের গুলির ভয় দেখিয়ে ওসির ইলিশ রক্ষা অভিযান

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫৫ পিএম

স্পিডবোট ছুটে চলেছে পদ্মার বুক চিড়ে। ওসিসহ পুলিশের কয়েকজন সদস্য তা সওয়ার। তাদের লক্ষ্য জেলেদের একটি স্পিডবোট। সেটিকে তারা তাড়া করছেন আর মুখে বলছেন ‘গুলি কর, গুলি কর’। 

লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পদ্মার বুকে এ অভিযানের একটি ভিডিও বুধবার রাতে ফেইসবুকে প্রকাশ পায়। পুলিশের পক্ষ থেকেই এ ভিডিও ফেইসবুকে প্রকাশ করা হয়।

ফেইসবুকে আসা ভিডিওর শিরোনামে লেখা হয়, ‘এটা কোনো হলিউডের মুভির দৃশ্য নয়, এটা লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসেনের মা ইলিশ রক্ষার অভিযান।’

ভিডিওটি আলোচনার জন্ম দেয় সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে।

 ভিডিওতে দেখা যায়, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা পুলিশের একটি দল স্পিডবোটে নিয়ে জেলেদের একটি স্পিডবোটকে তাড়া করছে, আর তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওসি আলমগীর হোসেন। পুলিশের তাড়া খেয়ে জেলেদের স্পিডবোটটি পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের স্পিডবোট থেকে বন্দুক উঁচিয়ে বারবার বলা হয় ‘গুলি কর, গুলি কর’।

বন্দুকধারী কয়েকজন পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম পরে এ অভিযানে অংশ নেন। ওসিসহ কয়েকজন ছিলেন সাধারণ পোশাকে।

ওসিকে স্পিডবোটের সামনে দাঁড়িয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি হবে গুলি, আজকে গুলি… অ্যাকশন’।

মাছ ধরতে আসা স্পিডবোটটি তাড়া খেয়ে নদীর তীরে ভেড়ার পর ছয়জনকে সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।

পুলিশের স্পিডবোটি সেখানে গিয়ে ভেড়ার পর ওসি বলেন, ‘অ্যাকশন সাকসেসফুল। আমরা আজকে স্পিডবোট ধরে ফেলেছি, দুই-চারটারে ধরতে হবে এখনই’।

এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা জেলেদের এভাবে ধাওয়া দিয়েছিলাম ভয় দেখানোর জন্য। যেন তারা আর নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরতে না আসে। মূলত এ সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতেই আমাদের এমন অভিযান। 

তিনি জানান, ফেসবুকে ভিডিওটি পুলিশের পক্ষ থেকেই আপলোড করা হয়েছে। যেহেতু জেলেরাও এখন ফেসবুক ব্যভহার করনে, সে জন্য এটা দেখে তারা যেন সচেতন হয়।

তিনি জানান, আসলে কোনো গুলি করা হয়নি। অভিযান হয়েছে ভিডিও প্রকাশের আরো তিন-চারদিন আগে।আরোহীরা দৌড়ে পালানোর পর ওই স্পিডবোট থেকে মাছ ধরার কিছু জাল উদ্ধার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত