দেশে প্রতিবছর সাড়ে ১২ হাজারের বেশি নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার রোগীই মারা যান। যথাসময়ে রোগ ধারা না পড়া, সঠিক চিকিৎসা না নেয়া বা সুযোগ না থাকা, চিকিৎসা-পরবর্তী ফলোআপ না হওয়াসহ নানা কারণে স্তন ক্যানসার হয়ে থাকে।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নারী সদস্য ও পরিবারের জন্য দিনব্যাপী স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং বিষয়ে অনুষ্ঠিত হেলথ ক্যাম্পে জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এনামুর রহমান, দেশে স্তন ক্যানসারের যে ব্যাপকতা রয়েছে, তাতে করে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রাথমিক অবস্থায় এটা নির্ণয়ের জন্য স্ক্রিনিং কর্মসূচি জনগণের নাগালের মধ্যে নেয়া প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যে ৮টি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নতুন ক্যানসার কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতা ও স্ক্রিনিং মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।
ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও স্তন ক্যানসারে নারীদের অবস্থান শীর্ষে। নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া বেশি বয়সে সন্তান, ৩০ বছর বয়সের পর বিয়ে ও প্রথম সন্তানের মা হওয়া স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। শাকসবজি ও ফলমূল না খেয়ে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার বেশি খেলে স্তন ক্যানসার বেশি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে সম্পাদক কাওসার আজমের সঞ্চালনায় হেলথ ক্যাম্পে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম, সার্জিক্যাল অনকোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান, ডিআরইউর অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী প্রমুখ।
