আসামে বন্দী শিবিরে ‘বাংলাদেশি’ চিহ্নিত আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৫৮ পিএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বন্দী শিবিরে আরও এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তার পরিবার মৃতদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিবিসি বাংলা জানায়, ফালু দাস নামের ৭২ বছরের ওই ব্যক্তিকে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি গ্রেপ্তার করে গোয়ালপাড়ার বন্দী শিবিরে পাঠানো হয়েছিল।

কয়েক দিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানেই মারা যান তিনি।

নলবাড়ি জেলার প্রত্যন্ত এলাকা সুতিমারি গ্রামে তার ছেলে মেয়ের কাছে খবর পাঠানো হলে তারা মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করেন।

ফালু দাসের বড় ছেলে ভগবান দাস বলেন, ‘বাবাকে যেহেতু বাংলাদেশি বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, তাহলে দেহ নিয়ে এসে কী করব? বাংলাদেশেই যাক দেহ।’

যেহেতু ফালু দাসকে ট্রাইব্যুনাল ‘বিদেশি’ বলে ঘোষণা করেছিল, তাই নিয়ম অনুযায়ী তার ছেলে মেয়েদের কারও নামই নাগরিক তালিকা-এনআরসিতে নাম ওঠেনি।

প্রশাসনের কাছে পরিবারটির দাবি, যতক্ষণ না তাদের সবার নাম এনআরসিতে তোলা হচ্ছে এবং ভারতীয় বলে ঘোষণা না করা হচ্ছে, ততক্ষণ তারা বাবার মৃতদেহ আনবেন না।

তাদের দাবি, ১৯৫১ সালের প্রথম নাগরিক তালিকায় তার বাবার নাম ছিল, এ ছাড়া তারা যে ভারতীয়, সেই তথ্য প্রমাণ হিসেবে ১৯৭১ সালের আগের অনেক নথিই তারা জমা দিয়েছিলেন।

শনিবার ওই পরিবারের কাছে গিয়েছিল বাঙালি নেতাদের একটি দল।

তাদের মধ্যেই ছিলেন সারা আসাম বাঙালি ছাত্র যুব ফেডারেশনের বাকসা জেলার নেতা মদন সাহা।

তিনি বলছিলেন, ‘ফালু দাসের বাবার নাম ছিল ভুলু রাজবংশী। অনেকের মতোই পদবি বদল করেছিলেন ফালু দাস। সেখানেই সমস্যাটা হয়েছে। যদিও ১৯৫১ সালের প্রথম এনআরসি বা ৬৬ সালের ভোটার লিস্টের সার্টিফায়েড কপি সবই দেখলাম আমরা। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে সেগুলো গ্রাহ্য করেনি। সেজন্যই বন্দী শিবিরে এভাবে মারা যেতে হলো তাকে।’

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন চেষ্টা করছে পরিবারটিকে বুঝিয়ে শুনিয়ে দেহ নিতে রাজি করাতে। নলবাড়ি জেলার ডেপুটি কমিশনার ভরত ভূষণ দেব চৌধুরী বলেন, ‘পরিবারটির সঙ্গে কথা বলতে তিনি নিজে দুবার গিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘সমস্যা হলো এনআরসিতে নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার অধিকার প্রশাসনের নেই। এটি সুপ্রিম কোর্টের অধীনে এখন। আর এনআরসিতে নাম না থাকা কাউকে যে এখনই গ্রেপ্তার করা হবে না সেই আশ্বাস তো আগেই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এগুলো তো লিখিতভাবে আমরা দিতে পারি না। তবে আর্থিক সাহায্য করা যেতেই পারে।’

এর আগে শোনিতপুর জেলার বাসিন্দা দুলাল পাল নামের এক ব্যক্তিও একই ভাবে বিদেশি বলে চিহ্নিত হয়ে বন্দী থাকাকালীন মারা যান।

তার পরিবার বলেছিল তাকে যেহেতু বাংলাদেশি বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তাই মৃতদেহও সেদেশেই পাঠিয়ে দেওয়া হোক।

মৃত্যুর দশদিন পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে দুলাল পালের দেহ নিয়ে সৎকার করেছে পরিবারটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত