আবরারকে পিটিয়ে হত্যা: শিবিরের তথ্য বের করতে পেটানোর নির্দেশ দেন সেতু

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৪২ পিএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীর (২২) কাছ থেকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের গোপন তথ্য বের করার জন্য পেটানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন এস এম মাহমুদ সেতু।

বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটানো হয়, এই কক্ষের পাশেই ২০১২ নম্বরের অবৈধ বাসিন্দা ছিলেন সেতু। তিনি আবরারের চিৎকার শুনে ২০১১ নম্বর কক্ষে গিয়ে গিয়ে মারধরকারীদের  জিজ্ঞাসা করেছিলেন,  এখানে কী হয়েছে?  তখন জুনিয়র ছাত্ররা জানান, ভাই একটা শিবির ধরছি। তখন সেতু বলেন,  ‘পিটা’! ভালো করে পিটা! কারা কারা শিবির করে ওকে (আবরার) পিটায়ে সব তথ্য বের কর’।

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের এই সিনিয়র ছাত্র সেতুর এমন নির্দেশনা পাওয়ার পর জুনিয়ররা আবরারের ওপর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল।

সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া অনেক আসামির জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেতুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে আরও তথ্য জানার জন্য আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও সেতু অবৈধভাবে হলে অবস্থান করেছিলেন। আবরার হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তকারী অপর এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের এপ্রিলে সেতুর শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছিল। কিন্তু হলের সিট না ছেড়ে ছাত্রলীগের নেতাদের প্রভাবে তিনি শেরেবাংলা হলের ২০১২ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে থাকতেন। সেখানে থেকেই তিনি মানিকগঞ্জের একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

তিনি আরও জানান, আবরার হত্যাকাণ্ডে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের সবার সিনিয়র ছিলেন এই সেতু।  তিনি চাইলে মারধরের হাত থেকে আবরারকে বাঁচাতে পারতেন। কিন্তু সেটা না করে উল্টো আরও পেটানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া সেতুসহ মোট ২১ জন কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। যদিও সোমবার পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ধরতে পারেনি পুলিশ।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত