মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা, লন্ডনে প্রবাসী সরকার

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০২:২৫ এএম

ভারতের মণিপুর রাজ্যের স্বাধীনতা ঘোষণার পাশাপাশি একটি প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যটির ‘ভিন্নমতাবলম্বী’ নেতারা। গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের মহারাজা লেইশিম্বা সানাজাওবার প্রতিনিধি দাবি করে এ ঘোষণা দেন ভিন্নমতাবলম্বী দুই নেতা। এদিকে এ বিষয়ে লন্ডনের ভারতীয় হাইকমিশন থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও ভারতের দ্য হিন্দু জানিয়েছে, স্বঘোষিত ‘মণিপুর স্টেট কাউন্সিলের মুখ্যমন্ত্রী’ ইয়ামবেন বিরেন এবং ‘পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী’ নারেংবাম সমরজিৎ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারা ‘মণিপুরের মহারাজার’ পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী সরকার ‘দ্য মণিপুর স্টেট কাউন্সিল’ শুরুর ঘোষণা দিচ্ছেন।

ভারতের ছোট রাজ্যগুলোর একটি মণিপুরের জনসংখ্যা ২৮ লাখের মতো। এ রাজ্যটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কথিত ‘সেভেন সিস্টার্সের’ অন্যতম। ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভের দুই বছর পর ১৯৪৯ সালে রাজাশাসিত মণিপুর ভারতের অন্তভু©ক্ত হয়। কিন্তু কয়েক দশক ধরে রাজ্যটিতে সহিংস বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলে আসছে।

বিরেন ও সমরজিৎ ২০১৯ সালের আগস্টে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে নথিপত্র উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পর বৈধ সরকার মণিপুর থেকে লন্ডনে স্থানান্তরিত হয়েছে। বিশ্বের কাছে স্বাধীন মণিপুর সরকারকে তুলে ধরার ও স্বীকৃতি চাওয়ার এটিই সঠিক সময় বলে আমরা মনে করি। জাতিসংঘের সদস্য সার্বভৌম সরকারগুলোকে মণিপুরের বৈধ ও প্রবাসী সরকারকে আজ থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করছি, বহু দেশ আমাদের স্বাধীনতায় স্বীকৃতি দেবে।’ এ সময় ২০১২ সালে মণিপুরে প্রথম প্রকাশ করা ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ পড়ে শোনান রাজ্যটির প্রবাসী নেতা সমরজিৎ।

মণিপুর রাজ্যে জাতিগত মিশ্রণও জোরালো। সেখানকার নাগা, মৈতৈ, কুকি ও পাঙনরা নিজেদের সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমরজিৎ বলেন, ‘সেখানে আমরা মুক্ত নই এবং আমাদের ইতিহাস ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই জাতিসংঘের উচিত আমাদের দাবিগুলো শোনা, গলা উঁচু করে পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই, মণিপুরে যারা বাস করেন তারাও মানুষ।’

মণিপুরে ‘১ হাজার ৫২৮টিরও বেশি বিচারবহিভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলা ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন’ বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, ‘মণিপুর স্টেট কনস্টিটিউশন অ্যাক্ট ১৯৪৭ এর অধীনে মণিপুর রাষ্ট্রের বৈধ সরকার গঠিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট এটি ব্রিটিশ রাজ থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিল। ১৯৪৯ সালে অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে ভারত সরকার মণিপুর রাষ্ট্রকে আত্মীকরণ করে নেয়।’ প্রবাসী এই দুই নেতা জানান, তারা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে একটি আবেদন করবেন এবং প্রিভি কাউন্সিলের আদেশ পাওয়ার পর স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘের দ্বারস্থ হবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত