হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০৫ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে ওই হাসপাতালে রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করলে হট্টগোল শুরু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের ম্যানেজার সুমনকে আটক করে।

নিহত সীমা আক্তার (২৫) তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ মিয়ার মেয়ে এবং জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার  মিন্টু মিয়ার স্ত্রী।

নিহতের খালা লাকি আক্তার বলেন, আমরা বুধবার দুপুরে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার আসবে বলে আমাদের ৪/৫ ঘণ্টা বসাইয়া রাখে। সন্ধ্যায় সেলাইন দেওয়ার পর রত্না ডাক্তার এসে আমার ভাগনির শরীর ঠান্ডা দেখে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে দেয় এবং দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর পর আমার বইনজি (ভাগনি) মারা যায়।

ডাক্তার সিফাত হোসেন রত্না বলেন, এখানে আমাদের অবহেলার কোনো কিছুই নেই, কারণ বুধবার আমরাতো রোগীকে কোনো চিকিৎসাই দেয়নি। কেননা সীমা নামের এই রোগীর শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলো না। সিজারিয়ান করার মতো অবস্থা ছিলো না তার।

গত ১৯ অক্টোবর সীমা আক্তারকে দেখে ওই দিনই রোগীকে দেখে ঢাকা অথবা কুমিল্লায় নিয়ে সিজার অপারেশন করার প্রেসক্রিপশন দিয়েছি। তারপরও তারা ঢাকায় না গিয়ে ১০ দিন পর আবার এখানে নিয়ে এসেছে। আমি বলবো এ মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ ঠিক নয়, পরিবারের লোকজনের গাফিলতি এখানে অনেকটাই দায়ী।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাতে ওই হাসপাতালে যাই। সার্কেল স্যার আবু সালাম চৌধুরী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও জামাল উদ্দিন এর উপস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে আমরা যেটা পেলাম সেট হলো, এই রোগীটার অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিলো, এ্যাকলামশিয়া বা খিঁচুনি থাকায় গত ১৯ তারিখ তাদেরকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলে, পরে তারা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখান থেকেও একই পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে আরএমও জানিয়েছেন।

রোগী হাসপাতালে আসার পর ৪/৫ ঘণ্টায় কোনো চিকিৎসা পেয়েছে বলে আমাদের মনে হয়নি। ইচ্ছাকৃত হোক আর অনিচ্ছাকৃত হোক বা যে কারণেই হোক রোগীর মৃত্যু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা বলে আপাতত প্রতীয়মান হওয়ায় ম্যানেজার সুমনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত