সৌদিতে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধের পরিকল্পনা নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩৩ পিএম

সৌদি আরবে কিছু নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেরত আসার পাশাপাশি অনেকের মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।  

বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে ক্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতদের চেক হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।  

২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হজের সময় মক্কায় মসজিদ আল-হারামের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ভ্রাম্যমাণ ক্রেন ভেঙে পড়ে। এতে এক বাংলাদেশিসহ ১১৮ জন মারা যান ও তিন বাংলাদেশিসহ আহত হন ৩৯৪ জন। হতাহতদের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে সৌদি সরকার।  তারই অংশ হিসেবে নিহত মোহাম্মদ আবুল কাশেম সুফির মা রাজিয়া বেগম ও স্ত্রী রুবিনা আক্তার চৌধুরীর হাতে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা, আহত সরদার আবদুর রব ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনকে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, নারীরা সৌদি আরব যেতে চাইলে আমরা বাধা দিতে চাই না। ধর্ষণসহ নির্যাতনের কারণে বড় একটি অংশ ফিরে আসছে। নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যাও করছেন অনেকে। কিন্তু ফেরত আসা ও মারা যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য নয়। সেখানে অন্দরমহলে যারা কাজ করেন তারা সেখানে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তখন তারা অভিযোগ করলে আমরা সৌদি সরকারকে জানাই। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

তিনি বলেন, নির্যাতনের তথ্য পেলে আমরা সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব, তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবে। অনেক সময় এসব তথ্য সেখানে থাকতে পাওয়া যায় না। কর্মীরা দেশে ফিরে অভিযোগ করেন। তারাও (সৌদি) স্বীকার করেছে, কিছু কিছু ভিক্টিমাইজ হচ্ছে। ব্যক্তি বিশেষের কারণে হচ্ছে। সরকার তো তাদের ভিকটিম বানাচ্ছে না।

সৌদিতে মারা যাওয়া কর্মীর মৃত্যুর ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো কর্মী মারা গেলে সাথে সাথে আমরা সৌদি সরকারকে জানাই। আমাদের কী পাবলিককে এসে বলতে হবে যে, আমরা চ্যালেঞ্জ করেছি? না, আমরা এভাবে বলি না!

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ প্রবাসী আছে। এদের অনেকের মৃত্যু হয়। দেশে থাকলেও তো মৃত্যু হয়। ১ কোটি ২২ লাখের ১ শতাংশ মারা গেলেও ১১ হাজার হয়। নরমাল প্রসেসেও অনেকে মারা যান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার নিজেদের সীমান্তে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদেরও ফেরত নিচ্ছে না। আমাদের হিসেবে যে রেকর্ড করেছি তার একটি লোকও ফেরত যায়নি। মিয়ানমার বলছে, কয়েকশ লোক গেছে এটা তাদের তথ্য, আমরা এটা জানি না। কিভাবে যাচ্ছে তাও আমরা জানি না। আমাদের এলাকা থেকে একটা লোক নিলেও আমরা জানতাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত