শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৫৫ এএম

সিলেটের মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর থেকে বিভিন্ন কারণে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ। প্লাবন ভূমি বাঁধ দিয়ে ফিশারি নির্মাণ, অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার, ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন, চাষযোগ্য কৃষিজমি ও পাহাড়ি এলাকায় লেবু, আনারস বাগানে কীটনাশক ব্যবহার, হাওরের নাব্যতা হ্রাস ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, হাইল হাওরে বিলুপ্ত মাছের মধ্যে রয়েছে- বাচা, ঘারুয়া, ছেপচালা, বাঘাইড়, ঢেলা, রিঠা, বাঁশপাতা, রানী, নাফতানি, নাপতে, কই, বামোশ, বড় বাইন, তিত পুঁটি, নামা চান্দা, একথুটি, চাকা, শ্বেত সিংগি, শ্বেত মাগুর মাছ। আর বিলুপ্তপ্রায় তালিকায় রয়েছে পাবদা, আইড়, বেদা, মিনি, ফলি, গজার, গুলশা, দাড়কিনি, চিতল, টাটকিনি, তারা বাইন ইত্যাদি।

হাওরে এখন পাওয়া যায়- কই, কাতলা, শিং, মাগুর, ঘনিয়া, বোয়াল, বইচা, ছোট চিংড়ি, কালবাউশ, গ্রাসকার্প, খলিশা, গুতুম, বেলে, কুচিয়া ইত্যাদি।

হাইল হাওরে দীর্ঘ ১৫ বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন মৎস্যজীবী সামাদ মিয়া। তিনি জানিয়েছেন, হাইল হাওর দখল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার মৎস্যজীবী বেকার হয়ে যাবে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সংগঠন বড় গাঙিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্পাদক মিনত আলী বলেন, দখলসহ বিভিন্ন কারণে হাইল হাওর জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছে। প্রতি বছর দুই সেন্টিমিটার করে হাইল হাওরের তলদেশে বালু ভরাট হচ্ছে। মাটি ভরাট করে অনেকে বসতবাড়িও তৈরি করছে। এতে মাছ কমে যাচ্ছে, ঝুঁকিতে পড়ছে মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা।

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিস আলী জানান, ফিশারির নামে হাইল হাওর দখল হচ্ছে। দায়িত্বশীল কেউ হাওর সুরক্ষায় আওয়াজ তুলছে না। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দিনকে দিন হাওর দখল করে চলছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.সহিদুর রহমান সিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে জানান, হাইল হাওরে উপজেলার সব জায়গা থেকে পানি এসে  জমা হয়। উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগান, লেবু বাগান ইত্যাদিতে পোকামাকড় মারার জন্য ব্যবহৃত কীটনাশক চক্রাকারে হাওরের পানিতে এসে পড়ে। এতে হাওরের মাছের প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। মাছগুলো মারাও যায়। তা ছাড়া ছোট ছড়াগুলো দিয়ে আসা পলি ও বালু হাওরে এসে হাওরের আবাস্থল নষ্ট করছে। শহরের বর্জ্যও হাওরে এসে পানি নষ্ট করছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে চা-বাগানের ব্যবস্থাপকসহ কীটনাশক ব্যবহারকারীদের এসব বিষয়ে জানানো হয়েছে। দেশি মাছ রক্ষায় সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাওরের বিভিন্ন জমি লিজ (ইজারা) দেয়া হয়। মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করা হয়। হাওর কেন্দ্রিক বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আমরা প্রতি মাসে মিটিং করি। হাওর দখল নিয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত