প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যেসব চুক্তি করেছেন তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন। ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি সম্পর্কে জানতে বিএনপির পক্ষ থেকে তথ্য কমিশনেও চিঠি দেওয়া হবে।
এছাড়া টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোন এবং রবিতে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, গ্রামীণফোন ও রবিতে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা মনে করি, এই ধরনের প্রক্রিয়া বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করবে এবং এটা প্রকৃত পক্ষে সরকার যে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে, সেই জড়িয়ে পড়ার আরেকটা ক্ষেত্র তৈরি হবে।
ফখরুল বলেন, এটি করলে গ্রামীণফোন ও রবির মতো এসব প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি জানান, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার এমন কোনো অবনতি হয়নি যে তাকে বিদেশ পাঠাতে হবে’– ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সভায় তারা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ডাক্তার নন। অথচ তিনি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে মশকারা করছেন। তিনি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তখন বিএনপি নেতারা তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। সেই ওবায়দুল কাদের বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে মশকারা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অনেককে আসামি করে মামলা করা হচ্ছে অভিযোগ করে এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মিরপুরের রূপনগরে যেসব শিশু মারা গেছে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, শাহজাহান ওমর গুরুতর অসুস্থ। তাদের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন তারা।
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সভায় মহাসচিব ছাড়াও অংশ নেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান।
