পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে হামলা-দখলের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:২২ পিএম

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি, দখল, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাজীরহাট থানার ৫ নম্বর বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সঞ্জয় চন্দ্র।

এর আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। 

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল নগরীর সদর রোডের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন ইউপি সদস্য ও কাজিরহাট থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক সঞ্জয় চন্দ্র।

লিখিত বক্তব্যে সঞ্জয় বলেন, ‘পঙ্কজ নাথ নিজের নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসছেন। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলছেন তাদের হামলা-মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। তিনি (সঞ্জয়) নিজেও তার সন্ত্রাসী, হামলা-মামলার শিকার’।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘পঙ্কজ নাথ ভুয়া ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নয়টি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য করেছেন। যার মধ্যে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে চাকরি নিয়েছেন সাংসদের ভাই মনোজ কুমার নাথের স্ত্রী। অবৈধ নিয়োগসহ অন্যান্য অভিযোগ তুলে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন সঞ্জয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দুদক মামলাটির তদন্ত শুরু করে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি দুদক বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান তদন্ত করছেন’।

লিখিত বক্তব্যে সঞ্জয় আরো অভিযোগ করেন, মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পঙ্কজ নাথ ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তার দুটি পা, একটি হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয়। এরপর সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ১২ জুন মেহেন্দিগঞ্জ নতুন ডাকবাংলোর ভিআইপি ১ নম্বর কক্ষে নিয়ে সঞ্জয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে মৃত ভেবে তাকে নদীতে ফেলে দেয়।

এ ছাড়াও গবিন্দপুর ইউনিয়নের চরে দেড় হাজার একর জমি দখল, আলিমাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুরের গাগড়িয়ার চরে তার চাচাতো ভাই রাম কৃষ্ণ নাথ হাজার হাজার একর জমির ভুয়া খতিয়ান খুলে ঘর তৈরি করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য, রাতের আঁধারে ভুয়া রেজুলেশন দেখিয়ে জনপ্রতি ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ৮০০ জনকে জমি বন্দোবস্ত কার্ড দেওয়াসহ অনেক অভিযোগ তোলেন।

এ ব্যাপারে পঙ্কজ নাথ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বরিশালের মহল বিশেষ এবং জাতীয় ও স্থানীয় কিছু নেতা লাগাতারভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আগে এই সঞ্জয়কে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় এক নেতা গণভবনে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে সে সফল হয়নি। এই সঞ্জয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। সেসময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছে এমন তথ্য আছে। সেটা আমার ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে ডাকবাংলোতে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট’।

তিনি আরো বলেন, ‘কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো সংসদ সদ্যের পক্ষে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। আর জমি দখল এবং কার্ডের মাধ্যমে ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ারও ক্ষমতা সংসদ সদস্যের নেই। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত