পাকিস্তানের ১০ হাজার কোটি টাকা বাঁচিয়ে দিলেন এরদোয়ান

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:০০ পিএম

তুরস্কের একটি বিদ্যুৎ কোম্পানির করা মামলায় হেরে গিয়ে বড় ধরনের জরিমানার মুখে পড়েছিল পাকিস্তান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের হস্তক্ষেপে সেই জরিমানা পরিশোধ করা থেকে রেহাই পেল দেশটি।

তুরস্ক সরকারের প্রচেষ্টায় এই বিপুল পরিমাণ জরিমানা থেকে রেহাই পাওয়ায় এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইমরান খান।

এক টুইটার বার্তায় তিনি লেখেন, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট (আইসিএসআইডি)-এর জরিমানা করা ১২০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা)  তুরস্ক প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সহযোগিতায় বাঁচিয়ে এনেছে পিটিআই সরকার।

আনাদলু জানায়, পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে ২০০৮-০৯ সালে দেশি-বিদেশি ১২টি কুইক রেন্টাল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে তৎকালীন পিপিপি সরকার। তুরস্কের কার্কে কারাদেনিজ ইলেকট্রিক উরেতিম (কেকেইইউ) তার মধ্যে একটি।

জানা গিয়েছে, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে ২০১১ সালের এপ্রিলে একটি জাহাজ করাচি বন্দরে আসে। কিন্তু কোম্পানিটি চুক্তি অনুসারে ২৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ব্যর্থ হয়। যদিও কোম্পানিকে ক্যাপিসিটি চার্জ হিসেবে ৯০ লাখ ডলার অগ্রিম পরিশোধ করে সরকার।

এই ঘটনায় পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) কোম্পানিটির বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের একটি অভিযোগ গঠন করে। তখন কেকেইইউ ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক কোটি ৮০ লাখ ডলার পরিশোধ করে সমঝোতার প্রস্তাব জানায় এবং আন্তর্জাতিক আদালতে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে।

কিন্তু কিছু রাজনৈতিক নেতা সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে আবেদন করেন এবং প্রধান বিচারপতি ইফতেখার মোহাম্মদ চৌধুরী কেকেইইউর সঙ্গে চুক্তিটি বাতিল করে দেন এবং কোম্পানিটিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১২ কোটি ডলার মিলিয়ন পরিশোধের চাপ প্রয়োগ করেন।

এতে কেকেইইউ ২০১৩ সালে আইসিএসআইডি’র আদালতের শরণাপন্ন হয়। সেইসঙ্গে তাদের জাহাজ ১৬ মাস করাচি বন্দরে আটকে রাখায় যে ক্ষতি হয়েছে তার জরিমানা দাবি করে বসে। সেই মামলায় কোম্পানিটি জিতে যায় এবং ইসলামাবাদকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করে আইসিএসআইডি।

এমন পরিস্থিতিতে ইমরান খান ব্যক্তিগতভাবে এরদোয়ানকে অনুরোধ করেন বিষয়টি সুরাহা করে দিতে। কারণ এই মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা দেওয়ার সামর্থ্য নেই পাকিস্তানের। 

ইমরানের অনুরোধে সাড়া দেন এরদোয়ান এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমঝোতা করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত