প্রশ্নপত্রে অনিয়মের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় আটকে গেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৪৫ হাজার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর ফলাফল। শিক্ষকের চাপিয়ে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বুধবার ফের পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে ন্যাশনাল কারিকুলামের ৩২৮ জন শিক্ষার্থীর।
এ অনিয়মের ঘটনার নয় দিন পরও তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে জড়িত লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসী গুরুতর অপরাধ করেও পার পেয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি দায়ী শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দিতেও শুরু হয়েছে তোড়জোড়। এ যেন শাস্তির বদলে পুরস্কার দেয়ার আয়োজন!
এ বিষয়ে ডি ইউনিটের কো অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আমরা ন্যাশনাল কারিকুলামের ৩২৮জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছি। পরীক্ষার পর দ্রুত ফলাফল প্রদান করে হবে।
জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর দুই শিফটে ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের ১০১, ১০২, ১০৩ নম্বর কক্ষের ইংরেজি মাধ্যম পরীক্ষার জন্য অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়মে ন্যাশনাল কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের বাংলা বিষয়ে ৩০ নম্বরের পরীক্ষা আবশ্যিকভাবে দেয়ার বিধান থাকলেও ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ৩০ নম্বরের বাংলা প্রশ্ন দেয়া হয়নি। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহিত করলে অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসী ওই তিন কক্ষের পরীক্ষার্থীদের ব্রিটিশ কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত ৩০ নম্বর ঐচ্ছিক ইংরেজি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে বলেন। এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে স্থগিত হয়ে যায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল। ওই দিন সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়টি স্বীকারও করেছেন ড. খসরুল আলম কুদ্দুসী।
অন্যদিকে, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের সভাপতি পদ থেকে অধ্যাপক ড. গোলাম কবিরকে বিনা নোটিশে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ৫০ নম্বরের পরীক্ষা ৭৫ নম্বরে নিয়েছিলেন এবং এ জন্য শিক্ষার্থীদের চার ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন। এতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলেও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হননি। কারণ ৭৫ নম্বরের পরীক্ষার জন্য চার ঘণ্টা সময় দেয়ার নিয়ম রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবুও ৫০ নম্বরের পরীক্ষা ৭৫ নম্বরে নেয়ার অজুহাতে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়াই নজিরবিহীনভাবে অধ্যাপক ড. গোলাম কবিরকে বিভাগীয় সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।
এর আগে ২০১৭ সালে নৃ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন মাস্টার্স পরীক্ষার্থীদের ২৫ নম্বরের টার্মিনাল পরীক্ষা ১০০ নম্বরে নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তাকে সতর্ক করে। বিশ্ববিদ্যালয় অরডিন্যান্স অনুযায়ী কোনো শিক্ষককে 'সতর্ক' করাও একপ্রকার শাস্তি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ড. খসরুল আলম কুদ্দুসীর বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে মনে করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত কয়েকটি বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, কেউ লঘু অপরাধ করে শাস্তি পাবে, আর কেউ বড় অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে তা কি করে হয়? এত বড় দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনার খসরুল আলম কুদ্দুসীর বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হবে। যদিও অতি সাম্প্রতিক সময়ে ছোটখাটো ভুলের জন্যও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাহলে এত বড় অপরাধ করেও কুদ্দুসী কেন পার পেয়ে যাবে?
ডি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) নুর আহমদ বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না। এ বিষয়ে জানতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও চবি উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
