দু’দিনের মধ্যে ১০০ টাকার নিচে নামবে পেঁয়াজের দাম

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩১ পিএম

খুচরা পর্যায়ে আগামী দুদিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার নিচে নামবে বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে মূল্য রসিদ ও প্রয়োজনীয় কাগজ ছাড়া আমদানিকারকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ না কেনার অঙ্গীকার করেছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ কথা জানান পেঁয়াজের আড়তদাররা।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সেলিম হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম অংশ নেন।

সভা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. সেলিম হোসেন বলেন, দু-এক দিনের মধ্য খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে আনতে যা যা করা দরকার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া রসিদ ছাড়া আমদানিকারকের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনবে না বলেও তারা অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, কাগজ ছাড়া কোনো ব্যবসা করবেন না। টেকনাফ ও কক্সবাজারে যারা কারসাজিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমাদের মোবাইল টিমের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হবে, তারা বাজার তদারকি করবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশি ও ভারতের পেঁয়াজ বাজারে ঢুকবে। তখন দাম ৪০ টাকায় নামবে। যারা এখন কারসাজি করতে চাইবেন বড় ক্ষতিতে পড়বেন।

সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ৩০ হাজার টন মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে বলে জেনেছি। ৪২ টাকায় কেনা পেঁয়াজ ৯৫-১০০ টাকা বিক্রি করে ৫৩-৫৮ টাকা প্রতি কেজিতে লাভ করেছেন আমদানিকারকরা। এই হিসেবে পেঁয়াজে তাদের লাভ হয়েছে ১৬০ কোটি টাকার ওপর আর খুচরায় ২০০ কোটি টাকার বেশি।

এ সময় সভায় উপস্থিত কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি নাদের হোসাইন বলেন, এই ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ কার পকেটে গেছেÑ এ বিষয়ে তদন্ত করা উচিত। এই টাকা জনগণের।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইদ্রিচ বলেন, মূলত আমরা মোবাইলে এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে পেঁয়াজ কিনি। তাই আমদানিকারকদের চিনি না। সিঅ্যান্ডএফকে ধরলে জানা যাবে। বর্তমানে ১৫০ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে। গত সোমবার এসেছে ৮-১০ ট্রাক। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন এসব মজুদ করা পেঁয়াজ বিক্রি করতে হবে। দুদিন পর খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকায় যাতে আসে সে চেষ্টা করব। আর পাইকারি বাজারে ৮০-৮৫ টাকায় যাতে পেঁয়াজ বিক্রি করা যায়, সে ব্যাপারে আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলব। যদি তারা ওই দরে পেঁয়াজ পাঠায় আনব, না হয় কক্সবাজারের ব্যবসায়ীদের বলব পেঁয়াজ পাঠানোর দরকার নেই।

বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, আগামীকাল থেকে কাগজ ও ইনভয়েস ছাড়া পেঁয়াজ আড়তে তুলবেন না বলে ব্যবসায়ীরা অঙ্গীকার করেছেন। পেঁয়াজ ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মজুদ করা পেঁয়াজের বিক্রি আগামীকালের (আজ) মধ্যে শেষ করত হবে। অঙ্গীকার ভঙ্গ করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত