ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে দেশর উপকূলীয় জেলায় শুক্রবার বৃষ্টি ঝরছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। শুক্রবার সকাল থেকে হালকা বৃষ্টির কারণে ঠান্ডার প্রভাব বেড়েছে।
এদিকে বুলবুল মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি সভা হয়েছে উপকূলের বিভিন্ন জেলায়। জেলা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
আমাদের বরিশাল অফিস জানায়, বুলবুল মোকাবিলায় খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম)। জেলা প্রশাসনের খোলা কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৭৪১ ১৯৬৯৩৯ ও ০৪৩ ১৬৩৮৬৩।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জরুরি প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় বরিশাল জেলায় ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টার কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রোভার স্কাউটের সদস্যরাও যেকোনো সহায়তা করবে। সিপিপির পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০০ মেট্রিকটন চাল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত আছে। ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক বার্তা দেখে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ যেন ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ আশ্রয়ে না থাকেন।
সভায় জনসাধারণকে সরকারি নির্দেশনা মেনে জানমাল রক্ষায় সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়।
ভোলা থেকে প্রতিবেদক হোসাইন সাদী জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভোলার উপকূলে সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জরুরি সভা করেছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে সাগর মোহনা থেকে নিরাপদে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিচ্ছিন্ন চরবাসীকে নিরাপদে রাখতে ৬৬৮টি সাইক্লোন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। সিপিবির ১০ হাজার কর্মী উপকূলীয় এলাকায় সতর্কবার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। চরবাসীর গবাদিপশু নিরাপদে মুজিব কিল্লায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগের আগে ও পরে সব পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ৯২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো: বদিউজ্জামানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এখনো পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো বিপদ সংকেত না থাকায় এলাকাবাসীকে নিরাপদ জায়গায় অথবা সাইক্লোন শেল্টারে এখনো উঠতে বলার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে জেলে ও নৌকা-ট্রলারের মাঝিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, জেলায় এখনো কোনো কন্ট্রোল রুম খোলা হয়নি। তবে উপজেলা প্রশাসন আগাম প্রস্তুতিসভা করেছে। তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিকেলে জেলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল নিয়ে করণীয় বিষয়ে প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হবে।
শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক দোলন বলেন, সকাল থেকে বাতাসের প্রভাব বেড়েছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তুতি সভাও সম্পন্ন করেছেন। যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য উপকূলের সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলার ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে উপকূলের মানুষদের সরিয়ে নিতে কাজ করবে সেচ্ছাসেবকরা।
শুক্রবার বেলা ১১টায় দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সভা করেছে।
সভায় সুন্দরবনের দুবলার চরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হতে যাওয়া রাস উৎসব বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১০ নভেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর সুন্দরবনের দুবলারচরের আলোরকোলে তিন দিনের এই রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে মৃদু ঠান্ডা বাতাস বইছে। বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। তবে এই আবহাওয়ায় মোংলা বন্দরে অবস্থান নেওয়া জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক দেব প্রসাদ পাল, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আহাদ উদ্দীন হায়দার, সাংবাদিক শেখ আহসানুল করিম, বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ওই সভায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
