হ্যাকারের হাত থেকে স্মার্টফোন বাঁচাতে

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৪২ এএম

যদি প্রশ্ন করা হয়, সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠেই কার মুখ দেখেন সবার আগে?

কিংবা, কার মুখ দেখে রাতে ঘুমাতে যান? এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকেই হয়তো এক শব্দে বলে দেবেন, ‘স্মার্টফোন’। যন্ত্রটি এমনভাবে মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে যে, ব্যবহারকারীর নাড়ি-নক্ষত্রেরও খোঁজ জানে এটি। একবার নিজের স্মার্টফোনেরই চোখ বুলিয়ে দেখে নিন এটিতে এমন কিছু তথ্য, ছবি, কিংবা কথোপকথন রয়েছে, যা অন্য কারও কাছে প্রকাশ করতে আপনি ইতস্তত বোধ করবেন। সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন হ্যাকের মতো ঘটনা বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে।

যেভাবে স্মার্টফোন হ্যাক করা হয়

হ্যাকাররা প্রায় সময়ই নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্মার্টফোনটি কিছুক্ষণের জন্য হাতে পেলে স্পাই অ্যাপ ইনস্টল করে ফেলে। স্পাই অ্যাপ হচ্ছে মোবাইল ট্র্যাকিং অ্যাপ্লিকেশন। যেমন : স্পাই ফোন অ্যাপ, স্পাইজি, স্পাইএরা ইত্যাদি। এসব অ্যাপ দিয়ে আপনার জিপিএস লোকেশন, অনলাইন অ্যাক্টিভিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেইসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ ও স্কাইপের কমিউনিকেশন ট্র্যাক করা যায়। সাধারণত কাছের মানুষরাই এ ধরনের হ্যাকিং করে থাকে।

এয়ারপোর্ট বা পাবলিক রেস্টুরেন্টে ফ্রি ওয়াইফাই দিয়ে হ্যাক করা যায় স্মার্টফোন। ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের অজান্তেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারী তার সব ট্রাফিক শেয়ার করে চারপাশের সবার সঙ্গে।

অজানা ইউএসবি দিয়ে চার্জ দিলেও ফোনের তথ্যাদি ট্রান্সফার হয়ে হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও সব ফোন সমসংখ্যক ডেটা ট্রান্সফার করে না, তবে হ্যাকাররা ফোনের ডিভাইসের নাম, ধরন, সিরিয়াল নাম্বার, ম্যানুফ্যাকচারার, অপারেটিং, ফাইল সিস্টেম তথ্য এবং ইলেকট্রনিক চিপ আইডি ট্রান্সফার করে নিতে পারে। আর এসব তথ্যাদি কোনো স্মার্টফোন হ্যাক করার জন্য যথেষ্ট।

এসএমএস ফিশিং হলো ফোন হ্যাক করার আরেকটি পরিচিত পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে হ্যাকাররা মেসেজ কিংবা চ্যাটে কোনো লিংক দেবে। অসাবধানবশত সেই লিংকে ঢুকলে স্মার্টফোনের সব ইনফরমেশন ট্র্যাক করা যাবে।

স্মার্টফোন হ্যাক যেভাবে বোঝা যায়

 ফোনে এমন অ্যাপ্লিকেশন আবিষ্কৃত হবে, যা ব্যবহারকারী নিজে ইনস্টল করেননি।

স্মার্টফোনের গতি কমে যাবে। ক্লিক বা টাচ করার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করবে না।

স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এটি মূলত হয় ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো অ্যাপ্লিকেশন চালু থাকলে।

স্মার্টফোন গরম হয়ে যেতে পারে। এমনকি যখন এটি ব্যবহারকারীর হাতে না থাকে তখনো। এর কারণ অজানা কোনো অ্যাপ্লিকেশন চালু থাকা।

 স্মার্টফোন নিজে নিজেই রিবুট নেবে অর্থাৎ বন্ধ হয়ে আবার চালু হবে। আরও ভয়ানক ব্যাপার হলো, কখনো দেখা যাবে তাতে একাই ফোন নম্বর টাইপ করা হচ্ছে, কোনো অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হচ্ছে ইত্যাদি।

ফোনের রিসেন্ট কললিস্টে অচেনা ফোন নম্বর দেখতে পাওয়া যেতে পারে।

ব্যবহারকারী চাইলেও তার ফোনটি সুইচ অফ করতে পারবেন না। সেটি করতে গেলে ফোনের ব্রাইটনেস বেড়ে যাওয়া, কোনো অ্যাপ চালু হওয়া ইত্যাদি অদ্ভুত আচরণ করবে।

ফোনে কথা বলার সময় বাড়তি আওয়াজ বা প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়া যাবে।

মোবাইল ব্রাউজারে ওয়েবসাইটের অ্যাপিয়ারেন্স বা চেহারা বদলে যেতে পারে।

ফোনের ডেটা খরচ বেড়ে যেতে পারে।

ফোনে হঠাৎ সময়ে সময়ে পপ-আপ চালু হবে।

যা করতে হবে

স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপগুলোকে নিয়মিত আপডেট রাখতে হবে। পুরনো ভার্সন ব্যবহার না করাই নিরাপদ। এটি কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

যখন একটি স্মার্টফোনে কোনো অ্যাপ ইনস্টল করা হয়, তখন ব্যবহারকারীর ফাইল, ক্যামেরা অ্যাকসেসসহ বিভিন্ন অনুমতি চেয়ে একটি মেসেজ প্রদর্শন করে। এ ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে পড়ে, ভেবেচিন্তে তারপর তাতে সম্মতি দিতে হবে।

স্মার্টফোনে পাসকোড লক সিস্টেম চালু রাখা উচিত। ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কারও হাতে গেলে যেন সে এটি ব্যবহার করতে না পারে, তাই পাসকোড ব্যবহার করতে হয়। বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাসের ব্যবস্থা রয়েছে, যা তুলনামূলক বেশি নিরাপদ।

যদি কোনো কারণে ফোনটি হারিয়ে যায়, তবে ব্যক্তিগত তথ্যগুলো যেন নিরাপদ থাকে তার পূর্ব পরিকল্পনা আবশ্যক। ফোনের সেটিংসে পরিবর্তন আনা উচিত যেন নির্দিষ্ট সংখ্যকবার ভুল পাসকোড দিলে তা আপনা-আপনি ফোনের সব ডেটা মুছে ফেলে।

অটো লগইন অপশন কখনোই চালু রাখা উচিত না। ব্যবহারকারীর কাছে অনুমতি চেয়ে ‘Would you like to save your password for this site এমন ধরনের একটি মেসেজ প্রদর্শন করে। এ ক্ষেত্রে উচিত তাতে অসম্মতি দেওয়া।

পাবলিক ক্যাফে রেস্টুরেন্ট বা যেকোনো স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই কানেক্ট করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

অনেক অ্যাপ ফোনের লকস্ক্রিনে নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞপ্তি পপ আপ করে। এই বিজ্ঞপ্তিগুলো কী প্রকাশ করতে পারে, সে বিষয়ে চিন্তা করা উচিত।

বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, জিমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপ ইত্যাদি সবকিছুর জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে একই সঙ্গে সব হারানোর শঙ্কা থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত