দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে তাদের কীর্তিময় জীবনী তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যের প্রতি উৎসাহিত করতে নেত্রকোনায় হিমু পাঠক আড্ডার উদ্যোগে এই প্রথম গুণিজনদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে নিজ জেলা নেত্রকোনায় বরেণ্য বুদ্ধিজীবী শিক্ষাবিদ যতীন সরকার, কবি হেলাল হাফিজ ও প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পালকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
বুধবার রাত আটটায় মোক্তারপাড়া প্রেস ক্লাব হলরুমে হিমু পাঠক আড্ডার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলপনা বেগমের সঞ্চালনায় সম্মাননা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী।
উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী, পৌর মেয়র মো. নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা প্রেস ক্লাবের সদস্য সিনিয়র ফটো এডিটর বুলবুল আহমেদ।
বক্তারা বলেন, লেখকের নিজ জেলায় এমন অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাছে সাহিত্যজীবন তুলে ধরে তাদের উৎসাহিত করা। একজন ভালো মানুষ গঠন করতে হলে সাহিত্য চর্চা করতে হবে। সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। হুমায়ূন আহমেদ তার লেখনী দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলেছিলেন; যা ইতিহাসে এক অনবদ্য সত্য। এমনটি অন্য কোনো লেখক করে যেতে পারেননি। আমরা এমন গুণিজনদের স্মরণের মধ্য দিয়ে এক একটা কীর্তিমান মানুষ গড়ে উঠবে নেত্রকোনা জেলাতেই।
হুমায়ূন আহমেদের পৈতৃক ভিটা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে হলেও মায়ের প্রথম সন্তান হওয়ায় তিনি মোহনগঞ্জের শেখবাড়িতে ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেদিন নানা এক মণ মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন পুরো মোহনগঞ্জ শহরে। সেখানেই কেটেছিল লেখকের শৈশব। আর সেই নানাবাড়ির অনেক ইতিহাস লেখকের বিভিন্ন বইয়ে তুলে ধরে মোহনগঞ্জকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সমগ্র বাংলায়। তার মতো আরও লেখক তৈরি করতে এই হিমু পাঠক আড্ডার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় এবং ঢাকার শিল্পীরা হুমায়ূন আহমেদ রচিত গান পরিবেশন করেন।
