রাবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ প্রগতিশীল শিক্ষকদের

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৩ পিএম

রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি’, ‘স্বজনপ্রীতি’ ও ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তাদের অপসারণ দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ পাঠ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরে ৪৭৫তম সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা ব্যাপক পরিবর্তন করে নিজের মেয়ে জামাইকে ট্যুরিজম হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ও আইবিএ’তে নিয়োগ দিয়েছেন।

তাছাড়া আটটি বিভাগের ২৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন যাদের অনেকের আগের নীতিমালায় আবেদন করার যোগ্যতায় ছিল না। স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক অ্যাডহক নিয়োগ দিয়েছেন যারা প্রকৃত অর্থেই অযোগ্য ও নিকটাত্মীয়।’

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘উপাচার্য নিজের কন্যা সানজানা সোবহানকে ২০১৮ সালে টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ও জামাতা বগুড়ার বিএনপি-জামাত পরিবারের সন্তান এটিএম শাহেদ পারভেজকে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) শিক্ষক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালাকে নিম্ন পর্যায়ে টেনে নিয়েছেন। নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মেধাতালিকায় প্রথম হতে সপ্তম  স্থানে মধ্যে থাকতে হবে কিন্তু বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তার কন্যা ও জামাতা মেধাক্রম ছিল যথাক্রমে ২১তম ও ৬৭তম।’

‘আমরা এসব অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নিপীড়ন, নিয়োগ বাণিজ্যের নির্মূল চাই, দুর্নীতিবাজদের অপসারণ চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতির পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এ কাজে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও সর্বোপরি সরকারের সহায়তা কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এক্রাম উল্যাহ, আইন বিভাগের সভাপতি বিশ্বজিৎ চন্দ, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রিয়া বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী পরিচালক চঞ্চল প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত