বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:১৪ পিএম

বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক অনুপ্রবেশের কোনো ঘটনা ঘটছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। ভারত থেকে কাউকে পুশ করা হবে না বলেও তিনি জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। ভারত সরকার বার বার বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে, এনআরসিতে বাদ পড়া কাউকে তারা বাংলাদেশে পুশ করবে না’।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের অনুপ্রবেশের কোনো ঘটনাও ঘটছে না’।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিবার বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বৃত্তি বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘এনআরসি ইস্যু নিয়ে কিছু ফড়িয়ারা তৎপর রয়েছে। তারা কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বলছে, ‘বাংলাদেশে গেলে বিনা টাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হবে। সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবে।’ এ রকম প্রলোভনে তারা কিছু মানুষকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু এমন লোকদের কখনোই আমরা দেশে ঢুকতে দিচ্ছি না’’।

ড. মোমেন বলেন, ‘ভারতের এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া লোকজনকে নিয়ে মাঝে-মধ্যে কিছু তথ্য বের হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, এসব তথ্য সঠিক নয়’।

২১৮ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান: সিলেট জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২১৮ শিক্ষার্থীকে ১৫ লাখ ৭ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই বৃত্তি বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্বপ্ন বড় হলে, অর্জনও বড় হবে। এ জন্য কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিজেদের সোনার মানুষ হতে হবে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সুশিক্ষা অর্জন করতে হবে’।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার উন্নয়নে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে’।

তিনি বলেন, ‘নারী শিক্ষিত হলে পরিবার তথা গোটা সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধিত হয়। তাই সরকার নারী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে’।

সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ড. আহমদ আল কবির, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিংহ, জেলা পরিষদের সদস্য আমাতুজ জহুরা রওশন জেবীন রুবা, ইমাম উদ্দিন চৌধুরী, সাজনা সুলতানা হক চৌধুরী, নুরুল ইসলাম, শামীম আহমদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত