লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সম্মেলন দুই পক্ষের সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে গিয়েছে। এতে ৩ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৩ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।
সোমবার বিকেলে উপজেলার শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতের মধ্যে ৮ জনকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগামী ৯ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়নে সম্মেলন চলছে। এ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের জায়গা দখল নিয়ে সেখানকার বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম এবং নতুন কমিটিতে সভাপতি পদ প্রত্যাশী আলহাজ্ব রফিকুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষে ৩ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবুল হাশেম ও আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন ও পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুলের অনুগত বলে জানা গেছে।
পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বাবুল বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন স্থগিত করা হয়েছে’।
পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত জানান, সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের বিদ্যমান দুইটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ৫০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৩ রাউন্ড টিয়ালসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
