গৃহিণী-শিশুদের দিয়ে জেএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, ১০০ খাতা জব্দ

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৪০ পিএম

দিনাজপুরের বিরামপুরে শিক্ষক সাহানুর রহমান প্রতিবেশী এক নারী ও শিশুদের দিয়ে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করানোর সময় হাতেনাতে ধরা পরেছেন। এ সময় ১০০টি খাতা জব্দ করেছে প্রশাসন।

সোমবার বিরামপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর আলম ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জামিল উদ্দিন পুলিশসহ ওই খাতাগুলো জব্দ করেন। খাতাগুলো বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের। 

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুর রহমান জানান, বেলা ১২ টার দিকে এক ব্যক্তির বাড়িতে গৃহিণী এবং শিশুদের দিয়ে জেএসসি পরীক্ষার খাতা দেখানো হচ্ছে বলে খবর পেয়ে সাথে সাথেই সেখানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পুলিশকে পাঠানো হয়।

প্রশাসনের লোকজন জিয়াউরের বাড়িতে গেলে তার (জিয়াউর রহমানের) স্ত্রী দিলরুবা বেগম জানান, প্রতিবেশী শিক্ষক সাহানুর রহমান ২৫০টি খাতা দিয়ে গিয়েছিলেন যার মধ্যে মূল্যায়ন করা ১৫০টি খাতা নিয়ে গেছেন। বাকি ১০০টি খাতা ছিল। এই খাতাগুলো এবারে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পুত্র অনীক মূল্যায়ন করেছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। বাকি ১০০টি খাতা মূল্যায়ন হয়ে গেলে সাহানুর রহমানের স্ত্রী শাহানাজ বেগমের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

সাহানুর রহমান ফুলবাড়ী উপজেলার জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক আর তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম বিরামপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। জিয়াউর রহমান চাকরির সুবাদে অন্যত্র থাকে। তার স্ত্রী দিলরুবা বেগম গৃহিণী। তাদের দুই ছেলের মধ্যে একজন অনীক, যে এবারে জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে আর ছোট ছেলে আবরার নার্সারিতে পড়ে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট-জেএসসি পরীক্ষার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ২৫০টি খাতা মূল্যায়নের জন্য দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড থেকে গ্রহণ করেন শিক্ষক সাহানুর রহমান।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান জানান, এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলার পরামর্শ দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যাবেন। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন। খাতাগুলো অন্য পরীক্ষককে দিয়ে দেখানো হবে।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে এসব খাতা থানায় রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

তবে এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য শিক্ষক সাহানুর রহমান ও তার স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত