এসএ গেমসে অ্যাথলেটিকস ডিসিপ্লিনে এবার বড় ভরসার নাম জহির রায়হান। ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট ও ৪০০ মিটার রিলে ইভেন্টে খেলবেন শেরপুরের তরুণ। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশি অ্যাথলেটদের আগের সেই দাপট না থাকলেও জহির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করবেন বলে আশা সবার। ভারত ও শ্রীলঙ্কার অ্যাথলেটদের পেছনে ফেলে কাজটা কঠিন মনে করছেন জহির। তবে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে খেলার প্রতিজ্ঞার কথা জানালেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- তোফায়েল আহমেদ
প্রশ্ন: এসএ গেমসে অ্যাথলেটিকস ডিসিপ্লিনে প্রত্যাশার বড় অংশ জুড়ে আপনি। গেমসে আপনার নিজের প্রত্যাশাটার কথা জানতে চাই।
জহির: প্রত্যাশা একটাই। আমি আমার সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য চেষ্টা করব। ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট ও ৪০০ মিটার রিলে ইভেন্ট করব। আমার প্রতিপক্ষ দল শ্রীলঙ্কা-ভারত অনেক শক্তিশালী। এরপরও আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন: স্বর্ণ জয়ের কথা জানতে চাইলে কি বলবেন?
জহির: আসলে এটা বলা কঠিন। আমি বলতে পারছি না আমি স্বর্ণ পাব বা রৌপ্য পাব বা ব্রোঞ্জ পাব। কেননা ভারতের যারা আছেন তারা অনেক ভালো দৌড়াচ্ছে। শ্রীলঙ্কাও ভালো দৌড়াচ্ছে। ওরা ভালো ট্রেনিং করেছে। আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে তারা। এখন আমি কীভাবে বলব ওদের সঙ্গে ফাইট করে স্বর্ণ পেয়ে যাব। তবে আমি আমার সেরাটা দিয়ে ফাইট করব। বাকিটা ওপর ওলার ইচ্ছে।
প্রশ্ন: তার মানে পদক মিস হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না...
জহির: পদক পাওয়াটাই তো অনেক কঠিন। ভারত ও শ্রীলঙ্কার দুজন করে ট্র্যাকে নামবে। তারা অনেক ভালো। পাকিস্তান-মালদ্বীপও ভালো। ওদের সঙ্গে আমি দৌড়েছি। আমার যে টাইমিং তাতে ওরা সেভাবে পার পাবে না। কিন্তু ভারত-শ্রীলঙ্কার যারা অলিম্পিক খেলোয়াড়, ওদের সঙ্গে পারাটা কঠিন হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: আপনার বর্তমান ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং করতে পারলে কিছু সম্ভব?
জহির: সম্প্রতি ভারতে আমি ৪৭.৩৪ দৌড়েছি। ক্যারিয়ার সেরা ৪৬.৮৭, যেটা বাংলাদেশেই জাতীয় অ্যাথলেটিকসে করেছিলাম। ভারত-শ্রীলঙ্কার অ্যাথলেটরা দৌড়াচ্ছে ৪৫-এ। এর আগে এসএ গেমসে গোল্ড পেয়েছে ৪৬.২৩ এ (ভারতের রাজিব আরোকিয়া)। পার্থক্যটা মোটামুটি ভালোই। একেবারে কম নয়।
তবে সবাই আশা করছে আমি ভালো কিছু করতে পারি। এখন খেলার ওপর নির্ভর করবে। আমার এতটুকু আত্মবিশ্বাস আছে, আমার শরীর যদি সুস্থ থাকে আমি ইনশা আল্লাহ দেশের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসব।
প্রশ্ন: এবারই প্রথম এসএ গেমসে খেলবেন। এটা নিয়ে আলাদা ভালো লাগা কাজ করছে?
জহির: এটাই আমার প্রথম এসএ গেমস। আমাদের দেশে এসএ গেমসকে অনেক মূল্যায়ন করা হয়। এই গেমসে প্রথম যাচ্ছি, অন্য রকম একটা ভালো লাগা কাজ করছে। দীর্ঘ তিন মাস প্র্যাকটিস হলো অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে। ভালো সুযোগ-সুবিধা পেলাম। অবশ্যই দেশকে কিছু দেওয়া দরকার আমাদের। যদি না দিতে পারি তবে অবশ্যই ব্যর্থই বলতে হবে, যে সাধারণ মানুষের এত কষ্টের টাকায় আমরা যাচ্ছি। এখানে তো আমরা ফুর্তি করতে আসিনি। দেশকে কিছু দিতে আসছি।
প্রশ্ন: অর্থাৎ দেশপ্রেম থেকেই বাড়তি তাড়না পাচ্ছেন?
জহির: আমার শরীরের বিন্দুমাত্র রক্ত থাকতে আমি ছেড়ে দেব না। এ রকম একটা প্রেরণা আমার মধ্যে আছে। আমি দেশের জন্য আমার সর্বোচ্চটা দেব। সরকার যে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে এটা যদি কাজে লাগাতে না পারি তাহলে তো আমি স্বার্থপর হয়ে গেলাম। ইনশা আল্লাহ ভালো হবে। সবার দোয়া আছে, আর বিশ্বাস আছে। এটাই হচ্ছে বড় জিনিস।
