ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:০০ এএম

সেবা সিয়াস গ্রন্থি সেবাম নামে এক প্রকার তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণ করে যা ত্বককে মসৃণ রাখে। কোনো কারণে সেবা সিয়াস গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সেবাম নিঃসরণে বাধার সৃষ্টি হয় এবং তা ভেতরে জমে ফুলে ওঠে যা ব্রণ নামে পরিচিত। ব্রণ তৈরি হওয়ার পর্যায়ে এর মুখ বন্ধ থাকায় সাদাটে দেখায়। প্রায়ই ব্রণের চারপাশে প্রদাহ শুরু হয় এবং এর রং লাল দেখায়। এতে জীবাণু সংক্রমণ ঘটলে পুঁজ তৈরি হয়। বাইরে থেকে এদের ছোট দেখালেও এরা বেশ গভীর হতে পারে। এজন্য ব্রণে সংক্রমণ সেরে গেলেও মুখে দাগ থেকে যেতে পারে।

ব্রণ কেন হয়

ব্রণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত না হলেও সাধারণত দেখা যায় হজমের গোলমাল, সুরাপান, বয়ঃসন্ধিকালে কিংবা অন্যান্য কারণে অনেকের মুখে ব্রণ হয়। আবার অনেকেই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ব্রণের অনেকগুলো কারণের ভেতর বংশগত কারণ অন্যতম। প্রোপাইনি ব্যাকটেরিয়াম একনিস নামক এক ধরনের জীবাণু স্বাভাবিকভাবেই লোমের গোড়াতে থাকে। এন্ড্রোজেন হরমোনের প্রভাবে সেবাম-এর নিঃসরণ (মাথা, মুখ, ইত্যাদি জায়গায় তেলতেলে ভাব) বেড়ে যায় এবং লোমের গোড়াতে উপস্থিত জীবাণু সেবাম থেকে ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে। অ্যাসিডের কারণে লোমের গোড়ায় প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং লোমের গোড়ায় কেরাটিন জমা হতে থাকে।

ব্রণের প্রকারভেদ

 ট্রপিক্যাল একনি : অতিরিক্ত গরম এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হলে পিঠে, উরুতে ব্রণ হয়ে থাকে।

 প্রিমিন্সট্রায়াল একনি : কোনো কোনো মহিলার মাসিকের সপ্তাহ খানেক আগে ৫-১০টির মতো ব্রণ মুখে দেখা দেয়।

 একনি কসমেটিকা : কোনো কোনো প্রসাধনী লাগাতার ব্যবহারে মুখে অল্প পরিমাণে ব্রণ হয়ে থাকে।

 একনি ডিটারজিনেকস- মুখ অতিরিক্ত সাবান দিয়ে ধুলেও (দৈনিক ১/২ বারের বেশি) ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়।

 স্টেরয়েড একনি : স্টেরয়েড ওষুধ সেবনে হঠাৎ করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখে স্টেরয়েড, যেমন– বটানোবেট ডার্মোভেট জাতীয়। ওষুধ একাধারে অনেকদিন ব্যবহারে ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়।

হলে যা করণীয়

দিনে দুই-তিনবার হালকা সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। হাত লাগানো যাবে না। মাথা খুশকিমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং নিজের জন্য আলাদা তোয়ালে রাখা উচিত। প্রয়োজন মতো ঘুম, মানসিক চাপ পরিহার, প্রচুর পরিমাণে ফল, সবজি ও পানি পান করা উচিত। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তা দূর করতে হবে। মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পুষ্টিহীনতায় ভুগলে প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

এছাড়া রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। তেলযুক্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন করা যাবে না। দুগ্ধজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। সবসময় বাহির থেকে আসা মাত্র মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ধুলোবালি পরিষ্কার করা উচিত। তবে, যারা বহুদিন যাবৎ ব্রণ সমস্যায় ভুগছেন এবং কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না, তাদের অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত