ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেট ফেরানোর দীর্ঘ চেষ্টায় অবশেষে সফল পাকিস্তান। এই খবর আগেই নিশ্চিত হয়েছে। তাদের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে রাজি হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। দশ বছর আগে যে দলটির ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর ক্রিকেট মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল পাকিস্তান থেকে, সেই লঙ্কানরাই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে পাকিস্তান। ১১-১৫ ও ১৯-২৩ ডিসেম্বর সেই দুই টেস্টের জন্য গতকাল দল ঘোষণা করল লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। খর্বশক্তির নয় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারে পূর্ণ ১৬ সদস্যের পূর্ণশক্তির দলই ঘোষণা করেছে তারা।
কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঘরের মাঠে বিভিন্ন ক্রিকেট আয়োজন করে আসছে। দুবার পিএসএল আসরের ম্যাচ, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে সিরিজ সফলভাবে আয়োজন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দু’মাস আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করাচি ও লাহোরে তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে বিঘœ ছাড়া সফল আয়োজন শেষে ২০০৯-এর পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে টেস্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে পিসিবি।
আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম অনুযায়ী পাকিস্তানের সামনের সিরিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে। ওই ট্যুর নিজেদের মাটিতেই আয়োজন করতে চায় পিসিবি। তাই বাংলাদেশকে পাকিস্তান সফরে নিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এই চেষ্টায় সফলতা আসবে কি না তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত পূর্ণশক্তির শ্রীলঙ্কাকে দেশের মাটিতে খেলানোর চেষ্টায় সাফল্য দেখাল পিসিবি। এই সিরিজের জন্য দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস আছেন। গত ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবার দলে ফিরলেন দিনেশ চান্দিমালও। ম্যাথিউসসহ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পাকিস্তান সফর করতে নারাজ থাকা ৯ ক্রিকেটার আছেন সদ্য ঘোষিত টেস্ট দলে। ওই সিরিজের মাত্র ৫ জন ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন এবারের টেস্ট দলে। নিয়মিত অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœর অধীনে কুশল মেন্ডিস, দিলরুয়ান পেরেরা, সুরঙ্গ লাকমল, কুশল পেরেরা ও নিরোশান ডিকভেলারা খেলবেন এই সিরিজ।
শুরুতে নিরাপত্তার কারণে সিরিজটি নিরপেক্ষ ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে পিসিবি। তাই কঠোর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েই লঙ্কান দলকে দেশে নিচ্ছে পাকিস্তান। আগামী ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে শ্রীলঙ্কা। এতে ২০০৯ সালের পর প্রথম কোনো পূর্ণ শক্তির দল পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে। রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম ও করাচিতে দ্বিতীয় টেস্ট দুটিই হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।
