এসএ গেমসে স্বর্ণ পদক জয়ের পর গুরুকেই প্রথম স্মরণ করলেন দিপু চাকমা। সাফল্য উৎসর্গ করলেন গুরু মাহমুদুল ইসলাম রানাকে। এ ছাড়া বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ২০০৬ এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী মিজানুর রহমানের নাম। এগিয়ে যাওয়ার পথে যাকে প্রেরণা মেনেছেন তিনি।
নেপালে চলমান ১৩তম এসএ গেমসে সোমবার বাংলাদেশকে প্রথম স্বর্ণ পদক উপহার দিয়েছেন দিপু চাকমা। রাঙামাটির এই তরুণ তায়কোয়ান্দোতে পুমসে ২৯+ পুরুষ ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণ জয় করেন ভারতের প্রতিযোগীকে হারিয়ে। এই ইভেন্টে লড়েছে মোট ছয়টি দেশের প্রতিযোগী।
সেনাবাহিনীর খেলোয়াড় দিপু স্বর্ণ জয়ের পর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। ওভাবেই আমি নেমেছিলাম।’
২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমস থেকেই জাতীয় পর্যায়ে সেরা দিপু চাকমা। ‘দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক’ খ্যাত আসরে স্বর্ণ পদক জয় করে অভিভূত তিনি, ‘এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এটা অন্যরকম অনুভূতি। যদি তায়কোয়ান্দোতে কেউ প্রথম স্বর্ণ নিয়ে থাকে সেটা মিজান স্যার (মিজানুর রহমান)। ওনার প্রেরণায় এত দূর আসা। এ ছাড়া আমার সহকর্মী, ফেডারেশন কর্মকর্তা যারা আছে, যারা আমার পাশে ছিলেন। ওনাদের প্রেরণায় এত দূর আসা। সব সময় চেষ্টা করেছি দেশকে কিছু দেওয়ার জন্য।’
এসএ গেসমে তায়কোয়ান্দোতে বাংলাদেশ প্রথম স্বর্ণ পদকের দেখা পায় ২০০৬ সালে মিজানুর রহমানের হাত ধরে। এরপর ঢাকায় ২০১০ সালে এসেছে আরও দুটি স্বর্ণ পদক। ২০১৬ সালে ৩টি ব্রোঞ্জ এসেছিল এই ডিসিপ্লিন থেকে।
আর এবার প্রথম পদকটিই থাকল সোনালি রঙের। স্বর্ণ জয়ের পর দিপু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এবার আরও সাফল্য আসবে এই ডিসিপ্লিন থেকে, ‘কেউ যখন ভালো রেজাল্ট করে, পরবর্তীতে যারা থাকে তাদের বিশ্বাসটা ওপরে থাকে। আমার নিজেরও একটা ইভেন্ট আছে (মিশ্র)। সেখানেও স্বর্ণ প্রত্যাশা করছি। আশা করছি সেরকম কোনো কিছু করতে পারব আমরা।’
দিপু নিজের তায়কোয়ান্দোতে আসার গল্প বললেন এভাবে, ‘রাঙামাটিতে আমার শুরু। সেখানে মাহমুদুল ইসলাম রানা স্যার ১০ দিনের একটা কোর্সে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওখানেই তায়কোয়ান্দোর সঙ্গে পরিচয়। এরপর সেনাবাহিনীতে আসি।’
‘২০০৫ সাল থেকে সেনাবাহিনীতে। ২০০৬ এসএ গেমসে তায়কোয়ান্দোতে স্বর্ণজয়ী মিজানুর রহমান ছিলেন আমার অনুপ্রেরণা। স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের পতাকা এ রকম বড় কোনো পোডিয়ামে তুলে ধরব বা জাতীয় সংগীত বাজবে। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হলো।’ -যোগ করেন দিপু।
নিজের এই সাফল্য কাকে উৎসর্গ করতে চান। এমন প্রশ্নে দিপুর উত্তর, ‘শ্রদ্ধেয় মাহমুদুল ইসলাম রানা স্যারকে। আমি ইনজুরিতে থাকার পরও তিনি আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন। আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। আমার শুরুও হয়েছিল তার হাত ধরে।’
