পটুয়াখালীর কৃষকদের কাছ থেকে আমন ধান কিনছে সরকার

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৪৯ পিএম

চলতি আমন মৌসুমে পটুয়াখালী জেলার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনছে সরকার। ধান ক্রয়ের টাকা পরিশোধ করা হবে সংশ্লিষ্ট কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ধানের ন্যায্যমূল্যসহ মধ্যস্বত্বভোগী, ফড়িয়া বা দালালদের হাত থেকে ধানের বাজার রক্ষায় নেওয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ।

কৃষকরা জানান, প্রতি বছর কৃষকের গোলায় ধান উঠতে না উঠতেই মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতায় ধানের বাজার দর থাকে নিম্নমুখী। মিটার পদ্ধতির ব্যবহার না থাকায় ফড়িয়া-দালালরা কৃষককে জিম্মি করে প্রতি মণে ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪৭ কেজি হিসাবে ৭ কেজি ধান বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে।

প্রত্যেকটি হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এসব ফড়িয়া-দালালরা। ফলে বাইরের কোনো ক্রেতা আসতে পারছে না ধানের বাজারে। বাধ্য করা হচ্ছে তাদের কাছেই ধান বিক্রি করতে। শুধু তাই নয় ধান বিক্রি করে নগদ টাকা পর্যন্ত পায় না কৃষক। বিক্রির ৭/৮ দিন থেকে এক মাস পরেও টাকা নিতে হয়। আবার কৃষকের কেনা ধান বিক্রি করেই ওই টাকা শোধ দেওয়া হচ্ছে। মাঝখান থেকে বিনা পুঁজিতেই হাতিয়ে নিত কোটি কোটি টাকা মুনাফা।

পটুয়াখালী কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৫’শ মেট্রিক টন। চলতি আমন মৌসুমে জেলার নিবন্ধিত ২১,৯৩০ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ১৫,০৭৫ টন ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া নিয়েছে সরকার। ২৬ টাকা কেজি দরে এসব ধান ক্রয় করা হচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করা এসব ধানের মূল্য পরিশোধ করা হবে সংশ্লিষ্ট কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এ জন্য ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃষক মৈত্রীর সভাপতি কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। প্রক্রিয়াটি চালু হওয়ায় উপকৃত হবে কৃষক। সরকারিভাবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার এমন উদ্যোগে তারা আরও বেশি আগ্রহী হবে কৃষি কাজে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এবারই প্রথম জেলার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করছে সরকার। এতে ধানের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছে কৃষক। জেলার সকল কৃষকদের জানাতে হবে যে, খাদ্য গুদামের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সরকার ধান ক্রয় করছে। কৃষকরা যেন সরকারি এ সুবিধা গ্রহণ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে শত ভাগ কৃষকদের প্রকৃত তালিকা তৈরি হয়েছে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। ধানের বিক্রয়লব্ধ অর্থ কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করা হবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া বা দালালের হাতে টাকা যাওয়ার ভয় থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত