১৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এতদিন মশাল মিছিল, বিক্ষোভ, পেইন্টিং, গ্রাফিতির মতো কর্মসূচি পালন করলেও ১৩তম দিনে এসে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে দাবির কোনো সুরাহা না হওয়ায় এক কিলোমিটার পথ অবরোধ করে রাখেন তারা। অবরোধের মুখে ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যেতে পারেনি কোনো পরিবহন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলছে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান নাঈম বলেন, ‘যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। আজ ১৩তম দিনে আমাদের আন্দোলন অবরোধ কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ আনোরুল ইসলাম বলেন, ‘সমাবর্তনের সময় হল খোলা রাখা, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান ও দাম নির্ধারণ করাসহ কয়েকটি দাবি পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তোলা হবে। আশা করছি তখন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।’
১৬ দফার মধ্যে রয়েছেÑ সারা বছর হল খোলা রাখা, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, গ্রাফিতি করতে দেওয়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে স্বাধীনতা, ছেলে ও মেয়েদের হলে প্রবেশ এবং বের হওয়ার ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বৈষম্য ও সময়সীমা প্রত্যাহার করা, ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান বাড়ানো ও দাম কমিয়ে টংগুলোতে ভারী খাবার ব্যবস্থা করা, রাত ১০টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা রাখা। আন্দোলনকারীরা জানান, ছয়টি দাবির সময়সীমা গত বুধবার শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন সমাধানে যেতে পারেনি। পরে প্রশাসনকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে দাবি না মানায় অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ নভেম্বরের সিন্ডিকেট সভায় ডিসেম্বরের শীতকালীন ছুটি পিছিয়ে ৫ থেকে ১৬ জানুয়ারি করা হয়। একই সঙ্গে ছুটিতে আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। হল বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২০ নভেম্বর ক্যাম্পাসে মানববন্ধনের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু অনুমতি না নেওয়ায় প্রক্টরিয়াল বডি এসে তা পণ্ড করে দেয়। তখন শিক্ষার্থীরা ও প্রক্টর বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। মানববন্ধনে বাধা ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে পরদিন ফের মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ, সম্মিলিত প্রতিবাদী গান, মশাল মিছিল ও রোড পেইন্টিং করে আসছেন তারা।
