সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২৭ বছর দায়িত্ব পালনের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ আবদুস সালাম ওরফে এম এ সালাম।
১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রথমবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। এম এ সালাম পরবর্তীতে ১৯৯৬, ২০০৪, ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর পরপর চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২৭ বছর পর শনিবার দলের কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ৩৫৩ জন কাউন্সিলরের ভোটের মধ্যে এম এ সালাম ২২৩ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী পেয়েছেন ১২৯ ভোট।
একইভাবে ১৯৬ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শেখ আতাউর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ১৫৪ ভোট।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এ নতুন কমিটি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এর আগে শনিবার সকালে লালদীঘি মাঠে সমাবেশ শেষে নগরের কাজিরদেউরিস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বিকেল ৩টার দিকে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে বসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এতে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ৩৫৩ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।
কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতেই কেন্দ্রীয় নেতারা সমঝোতার মাধ্যমে এম এ সালাম ও আতাউর রহমানকে সভাপতি-সম্পাদক করে নতুন কমিটি করতে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু সভাপতি পদে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি মানতে রাজি না হওয়ায় তৎক্ষণাৎ ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথক কাগজে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলাদাভাবে ভোট দেন কাউন্সিলররা। এতে এম এ সালাম সভাপতি ও শেখ আতাউর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
নবনির্বাচিত সভাপতি এম এ সালাম চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এম এ সালাম ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য, ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য ও ১৯৮০ সালে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর। এতে কাউন্সিলরদের ভোটে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সভাপতি এবং এম এ সালাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হলে ওই পদে দলটির ৩ নম্বর সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল আলম চৌধুরীকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেন।
পরবর্তীতে গত ২৭ জানুয়ারি নুরুল আলম চৌধুরী মারা গেলে এই পদে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দলটির দুই নম্বর সহসভাপতি ও রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এম এ সালাম সাংবাদিকদের জানান, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অগণিত নেতাকর্মীর রক্ত, ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে টিকে আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় দল। নেতাকর্মীরা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন আজ, আমি এই দল ও দেশের জন্য প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করব। যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি সবাইকে নিয়েই কাজ করব।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পরামর্শে শিগগির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান এই নেতা।
একইভাবে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমানও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সব কাউন্সিলরদের কৃতজ্ঞতা জানান।
বেদারুল আলম বেদার নামে এক কাউন্সিলর জানান, ‘সালাম ভাই একজন পরিচ্ছন্ন, সৎ ও যোগ্য নেতা। ২৭ বছর সফলতার সঙ্গে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন শেষে কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এটা সালাম ভাইয়ের সততা ও যোগ্য নেতৃত্বের পুরস্কার। উত্তর জেলার সকল নেতাকর্মীসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও সালাম ভাইকে একজন ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবেই জানেন।‘
