‘রমিজ খাঁ বাহিনী’র অত্যাচারে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:১০ পিএম

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের আবুরা এলাকার ‘কানা রমিজ খাঁ’ বাহিনীর চাঁদা-দখলবাজি, হুমকি ও বিভিন্ন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নিরীহ মানুষ ও চিকন্দী বাজারের ব্যবসায়ীরা। ওই বাহিনীর ভয়ে ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। রমিজ খাঁ বাহিনীর অন্যায়, অত্যাচার থেকে রক্ষা ও পাওনা টাকা আদায় প্রসঙ্গে ১৮ জন ব্যবসায়ী শরীয়তপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

রমিজ খাঁর বাবার নাম মৃত আবদুল আজিজ খাঁ। রমিজ খাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ২৫ বছর আগে এলাকার মানুষ তার চোখ দুটি উপড়ে ফেলে। সেই থেকে তিনি কানা রমিজ খাঁ নামে পরিচিত। কিন্তু চোখে না দেখলেও তিন বিয়ে করা রমিজ ছেলেদের সহায়তায় গড়ে তুলেছেন অত্যাচারের এক বাহিনী।

বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে চিকন্দী চৌকি আদালত। আদালতটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭২ সালে। আর ১৯২৬ সালে আদালতের কাছেই গড়ে উঠে চিকন্দী বাজার। ওই বাজারে কোনো দোকান ঘর ও দালান নির্মাণ শুরু করলে কানা রমিজ খাঁ বাহিনীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া বেশির ভাগ দোকান মালিকদের কাছ থেকে মালপত্র নিয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী বাবুল ফকির নিজের গরু বিক্রি করেন রমিজ খাঁর ছেলে মোদাচ্ছের খাঁর কাছে। পাঁচ বছর হয়ে গেলেও গরু বিক্রির ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিষদ করেননি মোদাচ্ছের। টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। চিকন্দী বাজারের ব্যবসায়ীদের মারধর করার অভিযোগও আছে কানা রমিজ খাঁ বাহিনীর বিরুদ্ধে। তার ছেলেদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। চিকন্দী বাজারের বড় ব্যবসায়ী, ছোট ব্যবসায়ী, চা-পানের দোকানদার, দুধ ওয়ালা, মুচি থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছে কানা রমিজ খাঁ বাহিনী। চিকন্দী বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে তারা। প্রতিবাদ করলে বাড়ি ঘরে হামলা, লুটপাট চালায় ওই বাহিনী।

চুন্নু মাতবর, এনামুল, আলমগীরসহ চিকন্দী বাজারের অনেক ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসায়ীরা কানা রমিজ খাঁ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তাদের ভয়ে ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা রমিজ খাঁ ও তার বাহিনীর কাছে ৭ লাখ ৫৪০ টাকা পাবেন। কিন্তু তাদের কাছে টাকা চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। তাই রমিজ খাঁ বাহিনীর অন্যায়, অত্যাচার থেকে রক্ষা ও পাওনা টাকা আদায় প্রসঙ্গে শরীয়তপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।

তবে, অভিযুক্ত কানা রমিজ খাঁ জানান, তিনি ও তার সন্তানরা চাঁদাবাজি করে না। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে কিছু ‘খারাপ লোক।’

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি, প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত