মাত্র ৯২ রান পুঁজি নিয়ে জয় আসবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল মাঠে উপস্থিত সবার মাঝে। তবে আশা ছাড়েননি ১১ ক্রিকেটার। তাদের দুর্দান্ত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সোনার হাসি হেসেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের বোলারদের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তুলে ৮৯ রান। তাতেই ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন সালমা খাতুনরা। এসএ গেমসে প্রথমবারের মতো নারী ক্রিকেটের সেরা হয়েছেন তারা। বোলিংটা মোটেই খারাপ হয়নি। তবে তিনটি ক্যাচ ফেলে নিজেদের হারের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। কিন্তু শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম। সুবাদে বাংলাদেশ পায় ২ রানের স্মরণীয় জয়। টসে হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ৭ ওভারেই ৩৬ রানে হারায় ৫ উইকেট। সপ্তম ওভারে বাংলাদেশের টপ অর্ডার বলতে গেলে একাই গুঁড়িয়ে দেন শ্রীলঙ্কার উমেশা থিমাসিনি। তবে নিগার সুলতানার অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৯১ রানের সংগ্রহ পায়। ফাহিমা খাতুন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন। থিমাসিনি মাত্র ৮ রানে নেন ৪ উইকেট। জবাব দিতে নেমে এক পর্যায়ে তারা ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। তবে তাদের অধিনায়ক হারসিথা মাধবী দলের হাল ধরেন এবং বাংলাদেশের ফিল্ডাররা তিনবার ক্যাচ ফেলে দিয়ে তাকে থিতু হতে সহায়তা করেন। এ অবস্থায় জাহানারা দ্বিতীয় স্পেলে এসে দলকে দেন দারুণ এক ব্রেক থ্রু। ৩২ রান করা মাধবীকে ফেরান স্টাম্পের ফাঁদে ফেলে। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও শ্রীলঙ্কার নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা পেতে থাকেন রানের দেখা। ফলে শেষ ১২ বলে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন দাঁড়ায় ১১ রান। এ অবস্থায় মনে হচ্ছিল ম্যাচটা বাংলাদেশ হেরে যাবে। কারণ স্পিনার নাহিদা আক্তারের একটি বল বাংলাদেশ উইকেট কিপার নিগারের গ্লাভস ফসকে চার হয়ে যায়। তবে নাহিদা পরের তিনটি বলে আর কোনো রান না দেওয়ায় শেষ ওভাবে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন দাঁড়ায় ৭ রান। এ অবস্থায় দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার জাহানারার হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক সালমা খাতুন। জাহানারা বাকি কাজটা করেছেন দক্ষ হাতে।
ম্যাচ শেষে জাহানারা বলেন, ‘শেষ ওভারে বল হাতে নিয়েই আমি ঠিক করি আমার হাতে পুঁজি আছে ৫ রান, ৭ রান নয়। তার আগে আমি সবসময় বিশ্বাস করছিলাম যে শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতব। ভাবছিলাম যদি তিনটি ডট বল করতে পারি তাহলেই ওরা চাপে পড়ে যাবে।’ বাংলাদেশ অধিনায়ক সালমা বলেন, ‘অল্প পুঁজির পরও আমার মনে হচ্ছিল ম্যাচটা আমরা জিতব। কারণ আমাদের অনেক ভালো বোলার আছে। ব্যাট হাতে আমরা এক ওভারেই ৪ উইকেট হারাই। তবে আমাদের নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা দারুণভাবে ইনিংস মেরামত করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন।
জয়ের পর সালমা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে এসএ গেমসে তাদের খেলার সুযোগ করে দেওয়ায়, ‘আমরা আসলে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই না। তাই এই টুর্নামেন্ট আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার নেতৃত্বেই দল এশিয়া কাপ জিতেছিল। এবার এসএ গেমসে দেশকে সোনা এনে দিতে পেতে সত্যিই খুশি। এর জন্য ধন্যবাদ দেব বিওএ এবং বিসিবিকে।’
