টার্মিনাল থাকলেও ইজারাদারের ঘাটে ভিড়ছে লঞ্চ, ভোগান্তি যাত্রীদের

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৪৪ পিএম

রয়েছে নির্দিষ্ট লঞ্চ টার্মিনাল। যাত্রীদের উঠা-নামার জন্য রয়েছে পল্টুন, বেইলি ব্রিজ। মাত্র কয়েক মাস পূর্বেই লঞ্চ যাত্রীদের সুবিধার্থে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এ বেইলি ব্রিজ। সংযোজন করা হয়েছে নতুন একটি পল্টুনের। কেবলমাত্র ঘাট ইজারাদারের খামখেয়ালিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার এ লঞ্চঘাটটিতে ভিড়ছে না অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী কোনো লঞ্চ কিংবা যাত্রীবাহী ট্রলার।

প্রভাবশালী ইজারাদারের প্রকাশ্য চাপে লঞ্চ ভিড়াতে হচ্ছে ইজারাদারের স্ব-মিল ঘাটে। এতে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও প্রতিকার পায়নি সাধারণ যাত্রীরা। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কলাপাড়া পৌর শহরের বাজার ¯স্লাইস এলাকায় নুরুল হক মুন্সির স্ব-মিল এবং ইজারাদারের রাইস মিলের পাশেই ভিড়ছে কলাপাড়া-মৌডুবি রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি লঞ্চ।

এখানেই টেবিল-চেয়ার পেতে ইজারাদারের লোকজন যাত্রীসহ পণ্য পরিবহনের টোল আদায় করছে। ঘাটের পাশেই নদীর পাড়জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাটা গোল গাছ। রয়েছে বড় বড় গাছের স্তূপ। এরই মধ্য দিয়ে চরম ভোগান্তিসহ ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করছে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ যাত্রীরা। ঝুঁকি নিয়েই পণ্য পরিবহন করছে শ্রমিকরা।

কলাপাড়া-মৌডুবী রুটে চলাচলকারী এমএল রূপসী তুষার-২ লঞ্চের কেরানী আ. জব্বার দেশ রূপান্তরকে বলেন, যাত্রীসহ পণ্য পরিবহন এবং লঞ্চ ভিড়ানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ইজাদারের চাপে এখানে লঞ্চ ভিড়াতে হচ্ছে।

একই অভিযোগ এমএল রাহাত লঞ্চের কর্মচারীদের। লঞ্চ ভিড়াতে অপারগতা প্রকাশ করলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ করেন তারা।

মৌডুবীর লঞ্চযাত্রী রাশেদ বলেন, ঝুঁকি নিয়ে দুরু-দুরু বুকে লঞ্চে উঠলাম। নামার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সাহস পাচ্ছি না। একই কথা বললেন, লঞ্চের বেশ কয়েকজন যাত্রী।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, যাত্রীদের এই ভোগান্তি নিরসনে ইজাদারের খামখেয়ালির লাগাম টেনে ধরার ক্ষমতা কি কারো নেই!

ঘাট ইজারাদার তানভীর মুন্সী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকল অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি চাইলেও কর্তৃপক্ষ ঘাটে লঞ্চ ভিড়াচ্ছে না।

পটুয়াখালী অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে ইজাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

পটুয়াখালী অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান হতাশা প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষসহ যাত্রীদের সুবিধার্থে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে কলাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাটটি নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। অথচ সেখানে দোতলা লঞ্চ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটের কোনো লঞ্চ ভিড়ছেন এমন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত