ঢাকার কেরানীগঞ্জে চুনকুটিয়ার হিজল তলায় প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি. কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার বিকেলে এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে একজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
অগ্নিদগ্ধ ৩৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হলে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। দুপুর পর্যন্ত আরও পাঁচ জন মারা যায়।
ঢামেকে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- বাবলু (২৫), রায়হান (১৬), ইমরান (১৮), সালাউদ্দিন (৩২), আ. খালেদ (৩৫), সুজন (১৯), জিনারুল (৩২) ও আলম (৩৫), মেহেদী হাসান শান্ত (২০), ফয়সাল আহমেদ (২৯), জাহাঙ্গীর (৫৫) ্ও আ. রাজ্জাক (৪৫)। তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
ঢামেক বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন (আরএস) ডা. আরিফুল ইসলাম নবীন জানান, এদের সবারই শরীরে ৯০ ভাগেরও উপরে দগ্ধ হয়েছিল। প্রথম থেকেই এদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো।
তিনি আরও জানান, বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদেরকে সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বাত্মক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিদের সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে।
র্যাব ১০ সিপিসি ২ মেজর মো. শাহরিয়ার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
বুধবার বিকেল ৪টায় হিজলতলায় প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি. কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানাটিতে ওয়ান টাইম খাবার প্লেট, গ্লাসসহ বিভিন্ন আইটেম তৈরি করা হতো। আশপাশের মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১২টি ইউনিট একযোগে চেষ্টা চালিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। এ ছাড়া স্থানীয় র্যাব পুলিশসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত হয়ে আগুন নেভাতে ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
এর আগে চলতি বছর ২৫ এপ্রিল কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গত বছর ও এই একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
